নির্বাচনি ইশতেহারে জামায়াতে ইসলামীর গণমাধ্যম সংস্কারের অঙ্গীকার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৬টি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার’ রূপরেখা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর বনানী এলাকার হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে দলের আমির ড. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন। ইশতেহারের একেবারে প্রথম ভাগেই দেশের তথ্য ও গণমাধ্যম খাতের সার্বিক উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ পরিকল্পনার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষা ও নতুন গণমাধ্যম নীতিমালা
প্রকাশিত ইশতেহারে গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা ও অধিকার সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের সার্বিক আর্থিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ওয়েজবোর্ড নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। একই সাথে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জাতীয় বেতন কাঠামোর সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে এই ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যম খাতে সুস্থ, স্বাধীন ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাতে একটি যুগোপযোগী “জাতীয় গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন” করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা অবাধ তথ্যপ্রবাহের রূপরেখা তৈরি করবে।
দমনমূলক নীতি পর্যালোচনা ও স্বাধীন সম্প্রচার মাধ্যম
সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সাথে পূর্ণ সংগতি রেখে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দলটি। ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়, অতীতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণে যে সকল দমনমূলক নীতিমালা ও কালাকানুন আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনা করা হবে। বিগত দিনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন জনপ্রিয় পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল এবং সংবাদ পোর্টাল পুনরায় চালু করার আইনি সুযোগ প্রদান করা হবে। একই সাথে অতীতে অবৈধভাবে বাতিল করা সংবাদমাধ্যমের ডিক্লারেশন পুনরায় খতিয়ে দেখে দ্রুত বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের স্বায়ত্তশাসন ও সংস্কার পরিকল্পনা
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদ মাধ্যমগুলোর আমূল সংস্কারের কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দলীয় প্রভাব মুক্ত রেখে পুরোপুরি নিরপেক্ষ ও স্বায়ত্তশাসিত সরকারি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোকে জোরপূর্বক রাষ্ট্রীয় সংবাদ বা প্রোপাগান্ডা প্রচারে বাধ্য করার পুরোনো সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তথ্য অধিদপ্তর (ডিএফপি) থেকে সরকারি বিজ্ঞাপন ও তহবিল বিতরণের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বৈষম্যহীন নীতি অনুসরণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া প্রেস কাউন্সিলের বিচারিক ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাধীন সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে বাধাহীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে। দলটির মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ-এ বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #গণমাধ্যম