স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জামায়াতের ইশতেহার ঘোষণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিজ দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঘোষিত ইশতেহার অনুযায়ী, ৫ বছরের নিচে শিশু এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে সকল বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিককে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে দেশে পর্যায়ক্রমে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালু এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য ডিজিটাল হেলথ কার্ড বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়, যেখানে “স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার” এই মূল থিমকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জন্য কম খরচে ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

সরকারি হাসপাতাল শক্তিশালীকরণ ও গ্রামীণ স্বাস্থ্যের উন্নয়ন

দলটির ইশতেহারে আগামী ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে বিদ্যমান সকল সরকারি হাসপাতালের কর্মক্ষমতা শতভাগে উন্নীত করার বড় ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়িয়ে রাজধানীর ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপ কমানোর বিশেষ কৌশল নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে প্রাথমিক সেবা পৌঁছাতে নিবন্ধিত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা পর্যায়ে আধুনিক সুবিধা, আইসিইউ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা

ইশতেহারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। একইসাথে প্রতিটি জেলার সদর হাসপাতালে নূন্যতম ৫ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও সিসিইউ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শহরাঞ্চলের প্রতিটি ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র (জিপি সেন্টার) গড়ে তোলা হবে।

দুর্নীতি রোধ, ওষুধ সরবরাহ ও বিশেষ সেবা

স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি দূর করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তথ্য পাবলিক ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং সরকারি কেনাকাটায় ই-জিপি বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। ক্লিনিক ও হাসপাতালে কমিশন বাণিজ্য, অপ্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা এবং অনৈতিক উপহার সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর আইন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারে প্রায় ৩০০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ন্যায্যমূল্যে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে যা পরবর্তীতে ৫০০টি ওষুধে উন্নীত করা হবে। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা, এডিস ও সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ, দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের প্যালিয়েটিভ কেয়ার প্রদান এবং মানহীন মেডিকেল কলেজগুলোর মানোন্নয়ন ঘটিয়ে দেশে মেডিকেল ট্যুরিজম বিকাশের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #স্বাস্থ্যসেবা #নির্বাচন