বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণে জামায়াতের ১২ দফা নির্বাচনি অঙ্গীকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার’ প্রতিশ্রুতিতে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির ঘোষিত এই ইশতেহারে স্বল্প খরচে প্রবাসে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিরাপদ বিদেশযাত্রা এবং প্রবাসীদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকা-র বনানী-তে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার উন্মোচন করা হয়। প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ ও সার্বিক সুবিধা জোরদারে বিশেষ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইশতেহারে মোট ১২টি নির্দিষ্ট দফা ও প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনফরমেশন জোন

ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য একটি প্রস্তাব হলো প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে পুনর্গঠন করে ম্যানপাওয়ার ইন্ডাস্ট্রি মন্ত্রণালয় হিসেবে ঘোষণা করা। এই খাতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানোর রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। প্রবাসে গমনাচ্ছু কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে জেলাভিত্তিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনফরমেশন জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মীদের বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং কারিগরি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, যাতে বিদেশে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন কাজে তারা নিযুক্ত হতে পারেন।

বিনা খরচে প্রশিক্ষণ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভিসা প্রক্রিয়া

দলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন ও ভিসা প্রসেসিংয়ের সব প্রয়োজনীয় ব্যয় সরকারি ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করা হবে। বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য “বিনা খরচে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভাষা প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।” এছাড়া বিদেশযাত্রার সার্বিক ব্যয় কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। বিদেশগমনে দীর্ঘদিন ধরে চলমান মেডিকেল ও রিক্রুটমেন্ট সিন্ডিকেট প্রথা পুরোপুরি বাতিল করে পুরো শ্রমবাজারকে সব বৈধ ব্যবসায়ীর জন্য উন্মুক্ত করার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

দূতাবাস সেবা, রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা

প্রবাসীদের দ্রুত ও সহজ সেবাদানের লক্ষ্যে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে আরও প্রবাসীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রবাসীদের মধ্য থেকেই সেচ্ছাসেবক প্রতিনিধি নির্বাচন করে দূতাবাসের দৈনন্দিন সমন্বয়মূলক কাজে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসগুলোর সমন্বয়ে একটি আধুনিক অনলাইন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম চালু করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে প্রবাসীরা তাদের প্রয়োজনীয় অভিযোগ, আবেদন ও নানা জটিলতার হালনাগাদ অগ্রগতি সরাসরি ট্র্যাক বা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

বিনিয়োগ পরিবেশ, সংসদে প্রতিনিধিত্ব ও শেষকৃত্য ব্যবস্থাপনা

প্রবাসীদের অর্জিত অর্থ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে নিরাপদ বিনিয়োগের পরিবেশ, আর্থিক সুবিধা ও বিশেষ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা হবে। দেশের শাসনকার্য ও নীতি নির্ধারণে প্রবাসীদের অবদান জোরদার করতে সংসদে আনুপাতিক হারে প্রবাসী প্রতিনিধি নির্বাচন বা মনোনয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবাসীদের মানসিক ও ধর্মীয় চাহিদা পূরণে বিদেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মসজিদ ও উপাসনালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশে কোনো প্রবাসী মৃত্যুবরণ করলে তার ইচ্ছা অনুযায়ী সেখানেই দাফন বা সরকারি খরচে লাশ বাংলাদেশ-এ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দলটির মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে দুর্নীতি কমবে এবং প্রবাসীদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

#নির্বাচন #জামায়াতে_ইসলামী #ইশতেহার #প্রবাসী_কল্যাণ