ঢাকা-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনি জনসভা ও শক্ত অবস্থানের দাবি

যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলের আশাব্যঞ্জক জনসমর্থন নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সমগ্র দেশে ভ্রমণের পর তিনি জনগণের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করেছেন। সকল পেশা, বয়স ও সর্বস্তরের মানুষ আজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।

আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ের সম্ভাবনা ও জনসমর্থন

চরমোনাই পীর তার বক্তব্যে বলেন, “বিজয়ের মালিক সর্বশক্তিমান আল্লাহ, তবে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ও জনগণের উৎসাহ-উদ্দীপনা অত্যন্ত ইতিবাচক।” তিনি ঢাকা-৫ আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী হাজি মো. ইবরাহীমের বিজয় নিয়ে শতভাগ আশাবাদ প্রকাশ করেন। পীর সাহেব আরও দাবি করেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশ-এ ইসলামের সঠিক মূল্যবোধ প্রচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কেবল একটিই নির্ভরযোগ্য দল রয়েছে, আর তা হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। স্থানীয় জনগণ ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি এলাকার সুপরিচিত নেতা ইবরাহীমকে বিজয়ী করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা ও মৌলিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার

জনসভায় বক্তব্যে মনোনীত প্রার্থী হাজি মো. ইবরাহীম গত ৫৪ বছরের স্থানীয় রাজনীতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বহু প্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও ডেমরা, যাত্রাবাড়ী এবং কদমতলী এলাকার সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো প্রকৃত পরিবর্তন হয়নি। চাঁদা আদায়, অন্যায়-অবিচার, জমি দখল ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জনজীবন আজ বিপর্যস্ত। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে তিনি কেবল ব্যক্তি পরিবর্তনের পরিবর্তে নীতি ও আদর্শের মৌলিক পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উন্নয়ন পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি

হাজি ইবরাহীম তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে স্পষ্ট করেন যে, তিনি নির্বাচিত হলে এই অঞ্চল থেকে সর্বপ্রকার চাঁদাবাজি চিরতরে নির্মূল করা হবে। বাড়িঘর নির্মাণের সময় কোনো সিন্ডিকেটে চাঁদা দিতে হবে না এবং সরকারি কোনো দপ্তরে ঘুস প্রদান করতে হবে না। গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি তরুণ সমাজের বেকারত্ব দূর করতে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ மையம் ও আধুনিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার গড়ে তোলা হবে।

প্রবীণ নাগরিক ও নারীদের কল্যাণে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। এলাকার সকল প্রকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুণগত মান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বৃত্তায়ন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এই নির্বাচনি জনসভায় দলের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে হাতপাখা প্রতীকের বিজয় সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

#রাজনীতি #নির্বাচন #বাংলাদেশ #সংবাদ