জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি ইশতেহার: রোহিঙ্গা সংকট ও পররাষ্ট্রনীতি
ঢাকা-র একটি অভিজাত হোটেলে রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনি ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। এই ইশতেহারে দলটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে বৈদেশিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার উপস্থাপনের সময় জানানো হয় যে, একটি সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখাকে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। ইশতেহারে স্পষ্ট করা হয়েছে যে দেশের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে সক্ষমতা প্রদর্শনই হবে ভবিষ্যতের মূল লক্ষ্য।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন
জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনি অঙ্গীকারে উল্লেখ করেছে যে, রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী, শান্তিপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে তারা সর্বাত্মক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও নিরাপদ উপায়ে নিজ জন্মভূমিতে “প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা” তাদের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হবে। এই সংকট নিরসনে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোসহ মানবিক সহায়তা ও সমাধান প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে দলটি বদ্ধপরিকর।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদা বৃদ্ধি ও সমমানের পররাষ্ট্রনীতি
বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ এবং সকল বাংলাদেশি নাগরিকের সার্বিক মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করা হয়েছে। দলের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক মান এবং উপযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সময়োপযোগী নানা সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটি শক্তিশালী সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে বিশেষ প্রাধান্য প্রদান করেছে দলটি। ইশতেহারের তথ্যমতে, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে নিকট প্রতিবেশী দেশসমূহ যেমন ভারত, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং থাইল্যান্ড-এর সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সমতার কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে দ্বি-পাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা হবে।
বৈশ্বিক উন্নয়ন অংশীদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় ভূমিকা
বৈদেশিক নীতির গতিধারা বর্ণনা করতে গিয়ে দলটির দায়িত্বশীল পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সুদৃঢ় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকে সর্বদা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একইসঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তি ও উন্নত দেশসমূহ, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান এবং কানাডা-র সঙ্গে সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সম্পর্ক গঠন করা হবে। এছাড়াও উদীয়মান অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা-র দেশগুলোর সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের কার্যক্রমে সক্রিয় ও ফলপ্রসূ অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জাতিসংঘসহ সার্ক ও আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে বাংলাদেশের ভূমিকা সুসংহত রাখার কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, সার্বিক মানব নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার রক্ষার আন্তর্জাতিক প্রয়াসে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শান্তি বজায় রাখতে ঐতিহ্যগত ঐতিহ্য অনুসরণ করে “জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান” এবং একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ বিশ্বব্যাপী অভিবাসন কাঠামো গঠনে অব্যাহত সমর্থন জানাবে দলটি।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #পররাষ্ট্রনীতি #জামায়াত