সরকারের অব্যবস্থাপনায় তৈরি সংকট: মোমবাতি মিছিলে বিরোধী নেতৃত্বের তোপ

ঢাকার উত্তর বাড্ডা এলাকায় আয়োজিত এক প্রতিবাদী মোমবাতি মিছিলে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক নেতারা দেশের বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা দাবি করেছেন, এই সংকট কেবল বৈশ্বিক কোনো যুদ্ধের কারণে নয়, বরং সরকারের তীব্র অপশাসন, দুর্নীতি ও চরম অব্যবস্থাপনার কারণে তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ঘরে আলো নেই এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মোমবাতিই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে নেতারা উল্লেখ করেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যর্থতা এবং তীব্র সমালোচনা

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিশিষ্ট নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অজুহাত বা বৈশ্বিক যুদ্ধের দোহাই দিয়ে সরকার কোনোভাবেই নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। যাদের ওপর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা অতীতেও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বারবার ব্যর্থ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করে পুরো খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

বক্তারা অবিলম্বে এই চরম বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানান। একই সাথে গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের অন্যায্য ‘হিডেন চার্জ’ বা গোপন মাশুল দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি অতি দ্রুত ও কার্যকর উপায়ে এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করা না হয়, তবে দেশের সাধারণ আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

জনগণের ক্ষোভ এবং নীতিগত অবস্থান

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সারা দেশে যে মারাত্মক বিদ্যুৎ সংকট চলছে, তা কেবল কোনো সাধারণ কারিগরি সমস্যা নয়। এটি নীতির ভুল প্রয়োগ এবং সরকারের চরম উদাসীনতার ফল। প্রতিবেশি দেশ ভারত-এর সঙ্গে বিদ্যুৎ করিডোর চুক্তি ও লেনদেনের প্রসঙ্গ টেনে নেতারা বলেন, যখন নিজেদের দেশের সাধারণ মানুষ অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোনো অবস্থাতেই সাধারণ জনগণ মেনে নেবে না। জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করে গৃহীত এসব পদক্ষেপ দেশের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াচ্ছেন বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

গণমুখী রাজনীতির প্রত্যয় এবং জনগণের প্রতি অঙ্গীকার

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী-র প্রতিনিধিরা জানান, তাদের দল সর্বদা গণমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। দেশে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গঠন এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অবহেলিত মানুষের সার্বিক কল্যাণে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সংকটকালে জনগণের পাশে দাঁড়ানোই তাদের রাজনীতির প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রতিবাদ মিছিলে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি শেষে নেতৃবৃন্দ পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাজপথের এই মোমবাতি মিছিল কেবল ক্ষণিকের প্রতিবাদ নয়, বরং এটি একটি গভীর ও স্পষ্ট বারো বার্তা। অন্ধকার যত গভীরই হোক না কেন, সরকারের দমনপীড়ন ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর কখনো থামিয়ে দেওয়া যাবে না।

#রাজনীতি #বিদ্যুৎসংকট #বাংলাদেশ #প্রতিবাদ