ময়মনসিংহের ভালুকায় কৃষিজমিতে ৪৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে কৃষি বিভাগ এই প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জমিকে কৃষিজমি উল্লেখ করে আপত্তি জানালেও, পরবর্তীতে ‘চাপের মুখে’ অনাপত্তিপত্র দিতে বাধ্য হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্যোক্তা ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান হলেন ময়মনসিংহ-১১ আসনের (ভালুকা) বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার। ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নন্দীপাড়া ও ঝালপাজা মৌজার ১৭৩ দশমিক ১৩ একর জমিতে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের আপত্তি ও অনাপত্তিপত্র সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের দরপত্রে অংশ নিতে নির্ধারিত জমির বিপরীতে কৃষি বিভাগের অনাপত্তি প্রয়োজন। তাসলিমা আক্তার এই অনাপত্তিপত্রের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমির প্রকৃতি যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত জমিতে স্থানীয় কৃষকেরা বহু বছর ধরে দুই থেকে তিন ফসল ফলিয়ে আসছেন এবং মানুষের বসতবাড়িও রয়েছে। যাচাই কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত জমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এক ফসলি, যেখানে বোরো ধান চাষ হয় এবং সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে ধানের উৎপাদন হ্রাস পাবে। তবে এই প্রতিবেদনের এক মাস পেরোনোর আগেই ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়। এই অনাপত্তিপত্রে বলা হয়, প্রস্তাবিত জমির একটি বড় অংশ অকৃষি এবং বাকি অংশ এক ফসলি। এতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কৃষিজমিতে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে না। চাপের অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান অভিযোগ করেন যে, পুরো জমিকে অকৃষি দেখিয়ে প্রত্যয়ন দেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সংসদ সদস্যের পক্ষ, প্রশাসন ও নিজের দপ্তরের কর্মকর্তাদের চাপের কারণে অনাপত্তি দিতে হয়। তিনি আরও জানান, সরেজমিনে দেখতে গেলে মানুষ জমি ছাড়তে নারাজ ছিল এবং শুধু কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. এনামুল হকও স্বীকার করেন যে, কৃষি কর্মকর্তা অনাপত্তিপত্র দিতে না চাইলেও স্থানীয় ও ‘ওপর মহলের’ চাপে অনাপত্তি দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত জমির মধ্যে এক ফসলি, কোথাও দুই ফসলি জমি রয়েছে এবং প্রায় ১৪০ একরের মতো চাষাবাদযোগ্য কৃষিজমি সেখানে আছে। অন্যদিকে, সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ কৃষি বিভাগের তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি ডিজিটাল ম্যাপ ও গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে জমি পরিমাপ করছে। তাঁর দাবি, ওই ১৭৩ একর জমির সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ এক ফসলি জমি। কৃষিজমিকে অকৃষি দেখিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। এলাকাবাসীর উদ্বেগ ও আইনগত দিক ঝালপাজা ও নন্দীপাড়া মৌজার কৃষিজমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বন্ধের দাবি জানিয়ে স্থানীয় কৃষকেরা ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। তাঁরা জানান, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কৃষকদের বাধ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত করে এই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা, যাদের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় পড়েছে, তারা জমি ছাড়তে নারাজ। সত্তরোর্ধ্ব সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা এই জমিনে ফসল করি। আমন ও বোরো ধান হয়, শাকসবজি করি। আমরার অনুরোধ, এইনো যাতে সোলার না হয়। ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা আইন’ অনুযায়ী, ফসলি জমি নষ্ট করা এবং ফসলি জমিতে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.