জনগণের রায় অলরেডি হয়ে গেছে: লোহাগাড়ায় জামায়াত আমিরের বক্তব্য

নির্বাচনি প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে কড়া সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের জনগণ তাদের রায় অলরেডি দিয়ে দিয়েছে। এই রায় দেখে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “মাঘ মাসে মাথা যদি এত গরম হয়ে যায়, তবে চৈত্র মাসে কী পরিস্থিতি হবে?” তিনি আরও বলেন, মানুষ যখন নিজের ব্যর্থতার গ্লানি নিজের চোখের সামনে দেখতে পায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের চোখে সর্ষে ফুল ফোটে। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ায় আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।

তরুণ ও যুবসমাজের অনন্য ভূমিকা এবং জুলাই বিপ্লব

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে সাহসি যুবকরা বুক চিতিয়ে লড়াই করে বাংলাদেশ-কে স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত করেছে এবং রাজপথে তুলে এনেছে, সেই যুবকরাই আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তারা কখনো ঘুমিয়ে পড়েনি, বরং তারা সার্বক্ষণিক জেগে আছে। জুলাই বিপ্লবে দেশের নারীদের অপরিসীম অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বিপ্লবকে সফল করতে আমাদের মা-বোনদের অবদান ছিল অনবদ্য। রাজপথে নারীরা যেদিন নেমে এসেছিল, সেদিনই স্বৈরাচারী শাসক বুঝতে পেরেছিল যে তাদের ক্ষমতার আয়ু শেষ হয়ে এসেছে। সেই দিশেহারা পরিস্থিতি থেকে ৩১ জুলাই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

নতুন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার

জামায়াতে ইসলামী-র আমির স্পষ্টভাবে জানান, আমরা একটি সম্পূর্ণ দালালমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিবাজমুক্ত এবং মামলাবাজমুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। একইসঙ্গে আমরা ব্যাংক ডাকাত ও ঋণখেলাপিমুক্ত একটি অত্যন্ত মানবিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। রাজনীতির পুরনো নোংরা পথ ছেড়ে এখন রাজনীতির পরিষ্কার ও সোজা পথ ধরে হাঁটতে হবে। জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের স্মরণ করে তিনি অঙ্গীকার করেন যে, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের বেঈমানি করা হবে না। প্রয়োজনে আমরা নিজেদের জীবন দেবো, কিন্তু জুলাইয়ের অর্জনকে হাতছাড়া হতে দেবো না।

চাঁদাবাজির সমালোচনা ও বেকার ভাতা প্রসঙ্গে বক্তব্য

বিগত সাড়ে ১৫ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. শফিকুর বলেন, এই সুদীর্ঘ সময় আমরা সবাই চরম মজলুম ছিলাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর কিছু লোক হঠাৎ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কারখানা, রাস্তাঘাট ও দোকানে গিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। প্রতিপক্ষ দল বিএনপি-র প্রস্তাবিত বেকার ভাতার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের তরুণ ও যুবসমাজ কোনো ধরনের বেকার ভাতা চায় না, তারা নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ চায়। ২৪-এর বিপ্লবে যুবকরা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করার দাবি জানিয়েছিল।

তিনি আরও যোগ করেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বার্থে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে হবে। যারা পুরনো অন্যায় ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চায়, কেবল তারাই গণভোটের বিরোধিতা করে। তবে সার্বিক জনমতের চাপে এখন অনেকেই বাধ্য হয়ে গণভোটের পক্ষে কথা বলছেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #জামায়াত #নির্বাচন