নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পথরেখা ও জামায়াতের বার্তা
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পথরেখা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, যারা ঐতিহাসিক চব্বিশের চেতনা ও ছাত্র-জনতার রাজনৈতিক আন্দোলনকে স্বীকার বা বিশ্বাস করতে চায় না, তাদের জন্য ছাব্বিশের নির্বাচনে জনগণ লালকার্ড প্রদর্শন করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত সঠিক পথ খুঁজে পাবে এবং এ দেশের সচেতন জনগণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো প্রকার ভুল করবে না।
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব ও আন্দোলনের চেতনা
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে ছাত্র-যুবকদের ভূমিকা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যে অদম্য যুবকদের সাহসিকতা ও নেতৃত্বে আমাদের রক্তক্ষয়ী বিপ্লব সফল হয়েছে, সেই তরুণ যুবকরাই আগামী দিনের নতুন পথ দেখিয়ে দিয়েছে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও জাগরণ এখন সুস্পষ্ট। বিপ্লবোত্তর এই নতুন পরিবেশে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও সংগ্রামীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, তারা কোনো অবস্থাতেই জুলাইয়ের ত্যাগের সঙ্গে বেঈমানি করবেন না। জীবনের বিনিময়ে হলেও আন্দোলনের অর্জিত সম্মান ও চেতনা রক্ষা করা হবে।
চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য
জামায়াত আমির বলেন, দেশবাসী দীর্ঘদিন ধরে দমন-পীড়ন ও নৈরাজ্যের শিকার হয়েছে। তবে দেশের জনগণ এখন পরিচ্ছন্ন ও আদর্শিক রাজনীতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। রাজনীতির নোংরা পথ পরিহার করে সবাইকে সত্য ও সততার প্রকাশ্য সদর রাস্তায় হাঁটার আহ্বান জানান তিনি। দলটির শীর্ষ নেতা স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা চাই এমন একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র যেখানে কোনো দালাল, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ, ব্যাংক ডাকাত কিংবা ঋণখেলাপি থাকবে না।” একটি পরিপূর্ণ মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
অতীতের রাজনৈতিক নিপীড়নের কথা স্মরণ করে তিনি আরও জানান, প্রায় সাড়ে ১৫ বছর ধরে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলো চরম মজলুম অবস্থায় ছিল। তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার জুলাই আন্দোলনের সময় শেষ পর্যায়ে এসে রাজনৈতিকভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল এবং ৩১ জুলাই সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর কোনো কোনো গোষ্ঠী যদি পুনরায় চাঁদাবাজি বা অরাজকতায় লিপ্ত হতে চায়, তবে তাদের সেই সুযোগ আর দেওয়া হবে না। তিনি সবাইকে সৎ পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ কাজের প্রতিশ্রুতি দেন।
নতুন বন্দোবস্ত ও গণভোটে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত
নতুন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, যারা দেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হতে দিতে চায় না, কেবল তারাই পুরনো স্বৈরাচারী বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বর্তমানে পেছনের দিকে তাকানোর আর কোনো সুযোগ নেই। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে নতুন পরিবর্তনের পক্ষে সুদৃঢ় রায় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #জামায়াতে_ইসলামী #নির্বাচন