নারীদের নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও প্রকাশ্যে ক্ষমার দাবি

নয়াপল্টনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপি-র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান অভিযোগ করেছেন যে, নারীদের নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীল ও উচ্চশিক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে নারীদের হেয় করে মন্তব্য আশা করা যায় না। তাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর বক্তব্যের জন্য তাকে অবিলম্বে সাধারণ দেশবাসী ও নারীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

রাজপথে প্রতিবাদ মিছিল ও রাজনৈতিক সমাবেশ

নয়াপল্টনে অবস্থিত বিএনপি-র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে সেলিমা রহমান এই দাবি পেশ করেন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি সুবিশাল ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক মিছিল বের করা হয়। প্রতিবাদ মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় অতিক্রম করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে সমাপ্ত হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত হাজারো নারী নেত্রী ও কর্মী নারীদের অধিকার ও মর্যাদার পক্ষে জোরালো স্লোগান দেন।

নারীদের সামাজিক সম্মান ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা

সমাবেশে সেলিমা রহমান অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, “এই স্বাধীন দেশের পবিত্র মাটির মতো আমাদের মায়েরা এবং নারীরাও সমানভাবে পবিত্র ও শ্রদ্ধেয়।” তাই সমাজের সকল স্তরে নারীদের যোগ্য সম্মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বর্তমান আধুনিক যুগে এসে নারীদের স্বাধীনভাবে ঘরের বাইরে আসা এবং কাজে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন বাধা সৃষ্টি করা হবে? রাজনীতি, সমাজনীতি ও অর্থনীতিসহ দেশের প্রতিটি অগ্রযাত্রায় নারীদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

তিনি আরও যোগ করেন যে, নারীরা কেবল পরিবারের অংশ নন, বরং তারা এই বাংলাদেশ-এর মূল্যবান জাতীয় সম্পদ। তবে দুঃখজনকভাবে ভোটের রাজনীতি ও নির্বাচন এলে নারীদের নানাভাবে ব্যবহার করা হয় এবং তাদের সামাজিক অবস্থান নিয়ে আপত্তিকর আলোচনা সৃষ্টি করা হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, দেশের প্রতিটি নাগরিক হিসেবে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার প্রাপ্য। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি নারীদের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক স্বাধীনতা কেড়ে নিতে বা খর্ব করতে পারে না।

ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য

বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের আপামর নারী সমাজ যদি আজ সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ধরনের কুসংস্কারচ্ছন্ন ও বৈষম্যমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ায়, তবে ভবিষ্যতে নারীদের হেয় করার দুঃসাহস বারবার দেখানো হবে। তাই অধিকার রক্ষায় সর্বস্তরের নারীদের রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে আরও জোরালো বক্তব্য রাখেন বিএনপি-র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, নারীদের বাদ দিয়ে কোনো গণতান্ত্রিক সমাজ বা রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। প্রতিবাদ সভায় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহাম্মেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস এবং প্রচার সম্পাদক তাহমিনা আফরিন নীতাসহ সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #নারী_অধিকার