চট্টগ্রামে শফিকুর রহমানের জনসভাকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৃথক নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা এখন তুঙ্গে। এই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জনসভাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। নগর পুলিশ পুরো এলাকাটিকে একটি নিচ্ছদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার জন্য বেশ কিছু বিশেষ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে।

ডগ স্কোয়াড ও বিশেষ তল্লাশি অভিযান

জনসভার মূল ভেন্যু এবং এর আশেপাশের বিশাল এলাকা জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সোমবার দুপুর থেকেই অনুষ্ঠানস্থলের চতুর্দিকে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড দিয়ে নিবিড় ও কৌশলগত তল্লাশি পরিচালনা করা হয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা নিরাপত্তার ঝুঁকি যাতে তৈরি হতে না পারে, সে লক্ষ্যে পুলিশের কয়েকটি বিশেষ টিম কাজ করছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সমাবেশটির সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সব ধরনের ঝুঁকি এড়াতে ডগ স্কোয়াড টিমকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া সমাবেশের আগের রাত থেকেই দলটির নিজস্ব কয়েকশ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক সদস্য পুরো ময়দান ঘিরে পাহারায় নিয়োজিত রয়েছেন।

দিনব্যাপী একাধিক নির্বাচনী জনসভার বিস্তারিত সূচি

দলীয় উচ্চপর্যায়ের সূচি অনুযায়ী, দলটির শীর্ষ নেতা ডা. শফিকুর রহমান সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রধান অতিথি হিসেবে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। তিনি সকালে প্রথমে মহেশখালী এলাকায় আয়োজিত বিশাল জনসভায় অংশ নেন। এরপর নির্ধারিত সময়সূচি মেনে তিনি যথাক্রমে কক্সবাজার সদর, লোহাগাড়ার পদুয়া এবং পরবর্তীতে সীতাকুণ্ড এলাকায় আয়োজিত ধারাবাহিক রাজনৈতিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন। সবকটি স্থানে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে।

বন্দর কলেজ মাঠে মূল সমাবেশ ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি

দিনভর দূরপাল্লার সফর ও বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি জনসভা সফলভাবে সম্পন্ন করার পর, অপরাহ্ণে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছাবেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টায় বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মূল মহাসমাবেশে ভাষণ দেবেন তিনি। এই জনসভাকে স্মরণকালের বৃহৎ গণজমায়েতে রূপ দিতে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের অন্যান্য রাজনৈতিক জোটে থাকা সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বহুমাত্রিক ও বিশাল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো চট্টগ্রাম মহানগর এবং এর আশেপাশের জেলা পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সমাবেশের বার্তা সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গত কয়েকদিন ধরে যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় প্রীতি পথসভা, গণমিছিল, মাইকিং এবং সরাসরি লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আয়োজকরা প্রত্যাশা করছেন যে, আজকের এই সমাপনী জনসভায় দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটবে এবং এটি নগরীর রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে পরিগণিত হবে।

#রাজনীতি #চট্টগ্রাম #নির্বাচন #সংবাদ