নারীদের নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনা

নয়াপল্টনে আয়োজিত এক বিরাট প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপি-র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক হওয়ার যে দাবি জামায়াতের আমির করছেন, তা অত্যন্ত রহস্যজনক এবং অবিশ্বাস্য। স্বল্প সময়ের জন্য কীভাবে একটি ভেরিফাইড আইডি হ্যাক হয়, তা নিয়ে জনগণের মনে গভীর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ নারীদের অবস্থানকে হেয় প্রতিপন্ন বা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হলে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ কখনোই তা মেনে নেবে না বা নীরব থাকবে না।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে পরিচালিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ নারী অধিকার ও রাজনৈতিক মর্যাদার বিষয়ে সোচ্চার হন। সমাবেশ শেষে নয়াপল্টন এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক বর্ণাঢ্য বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা নাইট এঙ্গেল মোড় ঘুরে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে সফলভাবে শেষ হয়।

নারী নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া

রিজভী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন যে, নারীদের ভূমিকা নিয়ে রাজনীতিবিদদের দায়িত্বহীন বক্তব্য তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবমাননার শামিল। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে ভবিষ্যতে নারীদের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কেমন হতে পারে। ধর্মের দোহাই দিয়ে এবং রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে নারীদের এভাবে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং দেশের প্রগতিশীল সমাজের জন্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, জামায়াত আমির স্পষ্ট করে বলেছেন যে নারীরা সংসদ সদস্য হতে পারলেও দলের প্রধান পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না। রিজভী এই ধরনের মনোভাবকে সুস্পষ্ট বৈষম্যমূলক ও অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেন। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, জামায়াতে ইসলামী ঐতিহাসিক কোনো আন্দোলন, দেশের জাতীয় স্বাধীনতা কিংবা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কোনো সংগ্রামেই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি।

মহিলা দলের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও প্রতিবাদী চেতনা

উক্ত সমাবেশ ও প্রতিবাদী মিছিলে বিএনপি-র নীতি নির্ধারণী স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্যান বেগম সেলিমা রহমান নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে নারীদের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ও সম্মান নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সমতা ও স্বাধীনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে সংগঠনকে জাতীয় পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত করার অঙ্গীকার করেন নেতৃবৃন্দ।

এই প্রতিবাদী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহাম্মেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস এবং প্রচার সম্পাদক তাহমিনা আফরিন নীতা। এছাড়া অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের হাজারো নারী নেত্রী ও কর্মী উপস্থিত থেকে নারীদের অধিকার রক্ষার দাবিতে সোচ্চার স্লোগান দেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #নারী_অধিকার