ক্রীড়াঙ্গন ঘিরে বিএনপির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নতুন ভাবনা

দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রকে একটি শক্তিশালী সফট পাওয়ার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিএনপি বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, খেলাধুলার সার্বিক উন্নয়ন দেশের ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর শহীদ ফজলুর রহমান অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘ফিউচার অব স্পোর্টস ইন চট্টগ্রাম’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা এ বিষয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনা ও স্পোর্টস সেক্টরে সুদূরপ্রসারী বড় বিনিয়োগ

আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “একটি দেশ যখন খেলাধুলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জন করে, তখন বিশ্ব দরবারে সেই দেশের সুনাম ও পরিচিতি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।” তিনি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করতে পারলে ক্রীড়া খাতকে ঘিরে বড় ধরনের আর্থিক বিনিয়োগ এবং আমূল কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তিনি দেশের সার্বিক ক্রীড়াঙ্গনের মানোন্নয়নে ধারাবাহিক নজরদারির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানিয়ে নীতি-নির্ধারকরা উল্লেখ করেন যে, রাজনীতি ও শাসন ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এক বছরের মধ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে তা নিয়ে পুনরায় পর্যালোচনার আয়োজন করা হবে।

ক্রীড়া খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়ন

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন যে, খেলাধুলাকে আর কেবল সাধারণ বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এটিকে জাতীয় অর্থনীতি ও তরুণ প্রজন্মের ক্যারিয়ার গঠনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বর্তমান বিশ্বে স্পোর্টস একটি আন্তর্জাতিক সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাতে রূপ নিয়েছে। খেলাধুলার ব্যাপক বিস্তার ঘটলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীলতা পায়। টিকেট বিক্রি, স্পন্সরশিপ, দর্শক এবং বড় আয়োজনের মধ্য দিয়ে এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।

চট্টগ্রামের মাঠ সংকট নিরসন ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগ

বন্দরনগরীতে খেলার মাঠের তীব্র সংকটের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে সভায় জানানো হয় যে, ইতোমধ্যে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১টিতে খেলার মাঠ তৈরি করা হয়েছে। “অবশিষ্ট ওয়ার্ডগুলোতেও দ্রুত সময়ের মধ্যে খেলার মাঠ ও প্রয়োজনীয় আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” ফুটবলের পাশাপাশি সাতারসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খেলায় সুইমিংপুল তৈরি ও সর্বাত্মক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে, যাতে উদীয়মান তরুণ প্রতিভা বিকাশ লাভ করতে পারে।

খেলাধুলাকে একটি নির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসার ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। ক্রীড়াবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে এই মহাপরিকল্পনাকে আরও পূর্ণাঙ্গ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো খেলোয়াড়দের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা ও ক্যারিয়ারে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা। উক্ত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক এবং বিভিন্ন স্তরের জাতীয় খেলোয়াড়রা উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন।

#ক্রীড়াঙ্গন #চট্টগ্রাম #বিএনপি #বাংলাদেশ