নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নারী প্রতিনিধিদলের বৈঠক ও নানাবিধ অভিযোগ
ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দলটির মহিলা শাখার চারজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে এই আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সারা দেশে নারী কর্মীদের ওপর হামলা, সাইবার বুলিং এবং নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখার মতো বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেশ করা হয়।
দলীয় নীতি, নেতৃত্ব এবং নারী উন্নয়ন নিয়ে জামায়াতের বক্তব্য
বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত নীতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, “নারীরা জামায়াতের আমির বা সর্বোচ্চ পদাধিকারী হতে পারবেন না।” দলের আদর্শগত অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তারা একটি সুনির্দিষ্ট ইসলামি নীতির ওপর ভিত্তি করেই রাজনীতি পরিচালনা করে আসছেন, যেখানে পুরুষদের নারীদের পরিচালক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তারা এই আদর্শ মেনেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
তিনি ক্ষোভের সাথে আরও বলেন, কেবল একটি রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ পদে নারী থাকলেই সামগ্রিক অর্থে নারীর উন্নয়ন নিশ্চিত হয়ে যায় না। অতীতে দেশের রাজনীতিতে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করলেও দেশের সাধারণ নারীদের প্রকৃত ভাগ্যোন্নয়ন বা গুণগত কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। জামায়াতে ইসলামী সব সময় নারীদের প্রকৃত সম্মান, নিরাপত্তা এবং ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে বলে তিনি দৃঢ় দাবি ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা
সংগঠনের অন্য এক দায়িত্বশীল নেত্রী ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট জানান, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে ইতোমধ্যে তাদের দল থেকে বিপুল সংখ্যক নারী প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও এটি অব্যাহত থাকবে। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, আসন্ন দিনগুলোতে নারীরা জামায়াতের অভ্যন্তরীণ শীর্ষ পদে উন্নীত হবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
প্রচারে হামলা, সাইবার বুলিং ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ দাবির বিষয়
নারী নেত্রীরা নির্বাচনে প্রচারণায় নেমে মাঠপর্যায়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও নানাবিধ বাধার সম্মুখীন হওয়ার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনি প্রচার চালাতে গিয়ে তাদের নারী সদস্যরা প্রতিনিয়ত শারীরিক হামলা, হুমকি-ধামকি এবং সাইবার স্পেসে কুরুচিপূর্ণ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। এ কারণে দেশের প্রায় ১৫টি স্থানে সংঘটিত হামলার ভিডিও এবং প্রামাণ্য দলিল নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
তারা বলেন, “আমরা কোনো অপরাধজনক কাজ করছি না। দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ নারী এবং আমরা তাদের প্রতিনিধিত্ব করছি।” যেকোনো আঘাত বা বাধা স্বত্ত্বেও রাজপথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি অবাধ, সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #জামায়াত