চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই সফর উপলক্ষে দুই জেলার বেশ কয়েকটি নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন তিনি। দলটির শীর্ষ নেতার এই আসন্ন সফরকে সর্বাত্মকভাবে সফল ও সার্থক করার লক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে সংগঠনের চট্টগ্রাম মহানগরী শাখা। নগরীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় মহানগরী সভাপতি নজরুল ইসলাম। সভাটি পরিচালনা করেন সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও আঞ্চলিক পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, “দেশের কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক পরিবর্তন, ব্যাপক সংস্কার ও ন্যায়ভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একটি সুন্দর, চাঁদাবাজিমুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত নতুন দেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আকুল আহ্বান জানিয়েছেন তাদের দলীয় প্রধান।

জনসভার নির্ধারিত সময়সূচি ও সার্বিক প্রস্তুতি

মাওলানা শাহজাহান আসন্ন জনসভাগুলোর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানান, আমির ডা. শফিকুর রহমানের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে একাধিক সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, কক্সবাজার সদর ও মহেশখালী উপজেলায় সকাল ১০টায়, লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ায় দুপুর ১২টায়, সীতাকুণ্ড উপজেলায় বেলা ২টায় এবং সর্বশেষ চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সুবিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, জনসভা সুচারুভাবে সম্পাদনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং সুবিশাল মঞ্চ তৈরি সহ সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে গণমিছিল, পথসভা, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং কার্যক্রম অত্যন্ত জোরদারভাবে অব্যাহত রয়েছে।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার এবং নির্বাচনী সংস্কারের দাবি

সংবাদ সম্মেলন থেকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বার্থে ‘হ্যাঁ ভোট’-এর পক্ষে সুদৃঢ় জনমত গড়ে তোলার বিশেষ আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। একই সাথে ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টি-র সম্মানিত প্রতিনিধিরা একাত্মতা প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #চট্টগ্রাম #নির্বাচন