ঢাকা-১৬ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় আবেগ ও রাজনীতির ভিন্ন চিত্র

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো ঢাকা-১৬ (পল্লবী-রূপনগর) আসনেও নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। তবে সাধারণ রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেও এই এলাকায় সম্প্রতি এক অনন্য মানবিক ও আবেগঘন পরিবেশ প্রত্যক্ষ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্বাচনি মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নিজ নিজ কৌশল ও কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন।

প্রচারণার মিছিলে মানবিক দৃষ্টান্ত

সম্প্রতি সকালে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হক মিরপুর সেকশন সাত ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালান। স্লোগানে মুখরিত শত শত নেতাকর্মীদের একটি মিছিল সড়ক অতিক্রম করার সময় পথে হঠাৎ এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই প্রার্থী আমিনুল হক তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের নির্বাচনি স্লোগান ও জয়ধ্বনি বন্ধের নির্দেশ দেন। মুহূর্তেই প্রচারণার সব কোলাহল থেমে যায়। এরপর তিনি উপস্থিত সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে মৃত ব্যক্তির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। একজন রাজনৈতিক প্রার্থীর এমন সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণের জন্য স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

দোয়া পর্ব শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আমিনুল হক বলেন, “আমি এই এলাকারই সন্তান এবং এখানেই বড় হয়েছি। দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা, মুরুব্বি ও মুক্তিযোদ্ধারা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সর্বস্তরের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় মাঠে নেমেছেন—এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাকে দারুণভাবে আশাবাদী করছে।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষ শক্তি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে নানামুখী চক্রান্ত চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষের পরিচয়পত্র সংগ্রহ, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার অপচেষ্টা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, গত ১৭ বছর ধরে জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল; তাই সব অপতৎপরতা প্রতিহত করা গেলে আগামী নির্বাচনে নিশ্চিতভাবেই একটি ‘ভোট বিপ্লব’ ঘটবে।

১১ দলীয় জোটের উঠান বৈঠক ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি

অন্যদিকে একই দিনে রূপনগর এলাকার আরিফাবাদ ও আলুব্দী গ্রামে ব্যাপক আয়োজনে নির্বাচনি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের উপস্থিতিতে এতে সহস্রাধিক স্থানীয় ভোটার অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “গণভোটে জয়লাভের পাশাপাশি জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে রূপ দিতে জোটের প্রার্থীদের জয়ী করার কোনো বিকল্প নেই।” তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার জরাজীর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কঠোর প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

সংগঠনটির থানা নেতৃত্বের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা উপস্থিত অধিবাসীদের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা এবং উন্নয়ন চাহিদার কথা ধৈর্য ধরে শোনেন এবং তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

#নির্বাচন #রাজনীতি #বাংলাদেশ #ঢাকা১৬