পদত্যাগের পরও গণমাধ্যম ট্রায়ালের অভিযোগ সাবেক উপদেষ্টার
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন ও তীব্র ক্ষোভপ্রকাশক বার্তায় অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি দায়িত্ব থেকে সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি নেওয়ার পরও তিনি ক্রমাগত ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গণমাধ্যম ট্রায়ালের শিকার হচ্ছেন। সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং বাসভবন ত্যাগ করার নির্ধারিত নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলা সত্ত্বেও কিছু নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যম তার বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য পরিবেশন করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ ও স্পষ্ট বার্তায় তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
সরকারি বাসভবন ত্যাগ ও বস্তুনিষ্ঠ সত্য তথ্য
সাবেক এই উপদেষ্টা অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রচলিত সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী পদত্যাগের পর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কর্মকর্তা সর্বোচ্চ দুই মাস পর্যন্ত সরকারি বাসভবনে অবস্থান করার বৈধ সুযোগ পান। তবে তিনি রাষ্ট্রীয় নিয়মরীতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এবং সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে পদত্যাগের মাত্র ২০ দিনের মাথায় সরকারি আবাসস্থল ত্যাগ করেছিলেন। “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুই মাস থাকার আইনি বৈধতা থাকা সত্ত্বেও পদত্যাগের মাত্র ২০ দিন পরই আমি বাসা ছেড়ে দিয়েছি। অথচ এত বড় আত্মত্যাগের পরও আমাকে ভিত্তিহীনভাবে অন্যায় মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হতে হচ্ছে,” বলে তিনি চরম আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও যোগ করেন যে, নির্দিষ্ট আবাসন ত্যাগ করার সময় সেখানে থাকা সরকারি ও ব্যক্তিগত যাবতীয় আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদির একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিখুঁত তালিকা তৈরি করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট নিয়মমাফিক হস্তান্তর করা হয়েছিল। এত কিছুর পরও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হয় যে তিনি এখনো সরকারি বাসভবন আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। রাজধানী ঢাকা-র ঐতিহাসিক হেয়ার রোড-এ অবস্থিত রাষ্ট্রীয় আবাসস্থল ‘নিলয়-৬’ সম্পর্কিত যে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসংগত, বস্তুনিষ্ঠতাহীন এবং বাস্তবতার সত্যতার সঙ্গে কোনোভাবেই মিলে না।
রাজনৈতিক বিতর্ক বনাম ব্যক্তিগত আক্রমণ
নতুন রাজনৈতিক ধারার প্ল্যাটফর্ম এনসিপি-র অন্যতম তরুণ মুখপাত্র হিসেবে তিনি তার অবস্থান পুনরায় ব্যক্ত করে প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, সুস্থ ও গঠনমূলক রাজনীতিতে আদর্শিক এবং নীতিগত মতপার্থক্য থাকা একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো প্রকার সততা বা যৌক্তিক রাজনৈতিক আর্গুমেন্ট উপস্থাপন না করে কেবল গণমাধ্যমের পেশিশক্তি ও প্রভাব ব্যবহার করে ব্যক্তিগত চরিত্রহনন করা চরম হীনমন্যতার পরিচয় বহন করে।
তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, “আপনাদের যদি সৎসাহস থাকে, তবে আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ ও যুক্তির বিপরীতে সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক রাজনৈতিক যুক্তি উপস্থাপন করুন। রাজনৈতিক আলোচনার জবাব রাজনৈতিকভাবে না দিয়ে, গণমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কারও ব্যক্তিগত জীবন ও সততা নিয়ে কুৎসিত মিথ্যাচার করা অত্যন্ত লজ্জাজনক।” ছাত্র ও জনআন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা এই প্রতিনিধি আরও জানান যে, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্কার প্রক্রিয়ায় সততার সঙ্গে ভূমিকা রাখার পর এ ধরনের আক্রমণ তার ব্যক্তিসত্ত্বাকে আহত করেছে।
ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা
দীর্ঘদিনের দলীয়করণ এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অব্যवस्था সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই সাবেক উপদেষ্টা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নতুন বাংলাদেশ গঠনের যাত্রায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী ও প্রশাসনিকভাবে স্বাধীন করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার করতে হলে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে কোনঠাসা করার অপচেষ্টা বন্ধ না হলে দেশে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #গণমাধ্যম