ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন ও বিদায়ী নেতৃত্বের ভাবাবেগপূর্ণ বার্তা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) নতুন শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সংসদ অতি শিগগিরই অর্থাৎ আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। সংগঠনের দীর্ঘদিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিদায়ী সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পৃথক সুদীর্ঘ বিদায়ী বার্তা প্রকাশের মাধ্যমে নতুন কমিটিকে আন্তরিক শুভকামনা ও স্বাগত জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে সংগঠনটির রাজপথের এক দীর্ঘ, অত্যন্ত আন্দোলনমুখর ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সুসংগঠিত সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
ক্যাম্পাসে ইতিবাচক রাজনীতি চর্চা ও বিদায়ী সভাপতির বিশেষ মূল্যায়ন
বিদায়ী সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার ফেসবুকে প্রকাশিত বিদায়ী বার্তায় মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও গৌরবময় অধ্যায়টি অত্যন্ত সম্মানজনক, সুশৃঙ্খল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শেষ হতে চলেছে। তিনি দীর্ঘ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছাত্রদল-এর কেন্দ্রীয় সংসদে দায়িত্ব পালনের বিরল সুযোগ দেওয়ার জন্য বিএনপি-র শীর্ষ নেতৃত্ব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা ও পূর্ণ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
এছাড়াও তিনি বিএনপি-র বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুলসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও সাবেক ছাত্রনেতাদের অবদান স্মরণ করেন। বিদায়ী সভাপতি বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা রেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষাঙ্গনে সবসময় ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি বিকাশের নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীর মাধ্যমে বিন্দুমাত্র অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার না হন, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি অন্যান্য সংগঠনের শিক্ষার্থীরাও বিপদে বা সমস্যায় পড়ে এলে নিজ অবস্থান থেকে তা আন্তরিকভাবে সমাধান করার চেষ্টা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সংকট মোকাবিলা ও অর্জন
নিজের কমিটির সার্বিক কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিদায়ী সভাপতি বলেন, তাদের মেয়াদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সাফল্য ছিল ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলন-এর সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচির সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় রেখে রাজপথে সাহসী ভূমিকা পালন করা। তিনি আরও জানান, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়ের পর শিক্ষাঙ্গনগুলোতে তৈরি হওয়া শতাধিক মব জাস্টিসের ঘটনা ও সামাজিক মাধ্যমে চলা ক্রমাগত অপপ্রচারের মতো কঠিন পরিস্থিতিও তারা সফলভাবে মোকাবিলা করেছেন। দীর্ঘ মেয়াদের দায়িত্ব পালনকালে মানুষ হিসেবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে উদার মনে ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি আসন্ন নতুন কমিটিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর আহ্বান জানান।
সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা: বিদায়ী সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য
অন্যদিকে বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির জানান, বিগত ১/১১-এর সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার ছাত্ররাজনীতির যাত্রা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ ১৭ বছরের অনিশ্চয়তা, সীমাহীন ত্যাগ, গুম, খুন ও নির্যাতনের পর আজ তারা এক পরিবর্তিত ও নতুন বাংলাদেশ-এ দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিপীড়িত ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, তাদের কার্যকালে সারাদেশে ২,০০০-এরও বেশি নতুন সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়েছে, যা তৃণমূল কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমেরই গৌরবময় ফসল। তিনি নতুন নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে বলেন, তারা আগামী দিনেও সংগঠনের প্রতিটি প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকবেন।
#ছাত্রদল #বিএনপি #বাংলাদেশ #ছাত্ররাজনীতি #রাজনীতি #সংবাদ