সীতাকুণ্ডের সার্বিক কৃষিখাতে আধুনিকায়ন ও নতুন সম্ভাবনার বার্তা
শিল্প ও পর্যটন সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত সীতাকুণ্ড উপজেলার উত্তরাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর মূল জীবিকা গড়ে উঠেছে মূলত কৃষি খাতকে কেন্দ্র করে। এই অবহেলিত কৃষি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং আধুনিকায়ন করা গেলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানে এক যুগান্তকারী শুভ পরিবর্তন আসবে। স্থানীয় কৃষকদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে শীতলীকৃত সংরক্ষণাগার বা কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, বিনামূল্যে কিংবা অতি সাশ্রয়ী মূল্যে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও উন্নতমানের বীজ সরবরাহ এবং আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বৈজ্ঞানিক চাষ পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এসব সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে সীতাকুণ্ড কেবল নিজস্ব চাহিদা পূরণ করবে না, বরং সমগ্র বাংলাদেশ-এর জন্য অন্যতম প্রধান খাদ্যভান্ডার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে।
কৃষি কার্ড প্রবর্তন এবং অর্থনৈতিক বিপ্লবের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা
বিএনপি পরিকল্পিত বিশেষ কৃষি কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে একটি অভূতপূর্ব কৃষি বিপ্লব ঘটানোর যে স্বপ্ন দেখছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে এক নতুন দিকনির্দেশনা ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ বিভিন্ন তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগকালে এই গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি শনিবার সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্গত সৈয়দপুর ইউনিয়নে এক সমৃদ্ধ পথসভা ও সাধারণ মানুষের সাথে গণসংযোগকালে এসব মূলভিত্তিক কথা তুলে ধরেন।
গণসংযোগকালে তিনি স্থানীয় অধিবাসীদের উদ্দেশে সুস্পষ্টভাবে বলেন, “শিল্প এবং কৃষির এক অপূর্ব ও অনন্য সুন্দর সম্মিলনে গড়ে ওঠা সীতাকুণ্ড একটি পরম সম্ভাবনাময় ও সমৃদ্ধ জনপদ।” তিনি আরও বিস্তারিত মন্তব্য করেন যে, এই বিশাল অঞ্চলের সুপ্ত সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি। আগামী দিনে দেশের সেবা করার ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার পূর্ণ সুযোগ পেলে একটি আধুনিক, কর্মমুখী এবং পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংসম্পূর্ণ এলাকা হিসেবে অঞ্চলটিকে পুনর্গঠন করা বিন্দুমাত্র কঠিন কাজ হবে না বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ প্রকাশ করেন।
জনসংযোগ, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা
উক্ত বর্ণাঢ্য গণসংযোগ অনুষ্ঠানে স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ের অসংখ্য দায়িত্বশীল নেতা ও কর্মী সরাসরি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনী পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ সর্বাত্মকভাবে উপস্থিত থেকে সাধারণ ভোটারদের দোড়গোড়ায় সুনির্দিষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মূল উদ্যোগ নেন। প্রার্থীর এই যুগোপযোগী ও আশাব্যঞ্জক বক্তব্যে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং কৃষিজীবী সমাজ দারুণভাবে উৎসাহিত হন। নেতৃবৃন্দ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে অবহেলিত এই জনপদের প্রতিটি সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পরবর্তীতে উক্ত দিন বিকেলে প্রার্থী অন্যান্য দায়িত্বশীল সহকর্মীদের সাথে নিয়ে উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের সর্বস্তরের অধিবাসীদের সঙ্গে নিবিড় গণসংযোগে অংশ নেন। সেখানেও তিনি স্থানীয় বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, কৃষি খাতের জরুরি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অঞ্চলটির দীর্ঘদিনের জমে থাকা অবকাঠামোগত মূল সমস্যাগুলো স্থায়ীভাবে সমাধানের সুনির্দিষ্ট আশ্বস্ততা প্রদান করেন। সাধারণ জনগণের সরাসরি অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ ও ব্যাপক সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারণা ও সার্বিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে এক নবতর উদ্দীপনার উন্মেষ ঘটে, যা ভবিষ্যৎ স্থানীয় রাজনীতি এবং উন্নয়নের রূপরেখায় অত্যন্ত প্রমোদদায়ক ও গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
#কৃষি #সীতাকুণ্ড #রাজনীতি #অর্থনীতি #উন্নয়ন