ঢাকা-৬ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর সমর্থন বিএনপি প্রার্থীকে

ঢাকা-৬ নির্বাচনী আসনে নিজের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন গণঅধিকার পরিষদ-এর প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। নির্বাচনী এলাকায় এক প্রচারণামূলক গণসংযোগকালে তিনি সাংবাদিকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করেন। এর মাধ্যমে ওই এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন রূপ ধারণ করল।

জোটগত সমঝোতা ও সমর্থনের পটভূমি

নির্বাচনী জোটগত সমঝোতার কারণে ইতিপূর্বে গণঅধিকার পরিষদ-এর প্রার্থী হিসেবে ফখরুল ইসলাম প্রচার-প্রচারণায় তুলনামূলকভাবে কিছুটা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন। তবে পরবর্তীতে দলীয় সর্বোচ্চ পর্যায় তথা সভাপতি নুরুল হক নুরের সুস্পষ্ট নির্দেশনার পর তিনি সরাসরি বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ফখরুল ইসলাম জানান, দলীয় সভাপতির সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি ইশরাক হোসেনের পক্ষে তার পূর্ণ সম্মতি জ্ঞাপন করছেন।

গণসংযোগে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফখরুল ইসলাম দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এখন থেকে গণঅধিকার পরিষদ এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহ মাঠে থেকে বিএনপি-র হয়ে সর্বাত্মক কাজ চালিয়ে যাবে। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ ও যুগপৎ আন্দোলনের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন, আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে ইশরাক হোসেনের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য সকল নেতাকর্মী একযোগে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ের জন্য মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন।

ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা ও পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার

প্রচারণাকালে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন অতীতের রাজপথের আন্দোলনের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, রাজপথের কঠিন দিনগুলোতে বিএনপি এবং গণঅধিকার পরিষদ-এর নেতাকর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। একইসঙ্গে তিনি পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদ-এর সভাপতি নুরুল হক নুরকে ট্রাক প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য উপস্থিত ভোটারদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক পরিবেশ ও নির্বাচন কেন্দ্রিক উদ্বেগ

ইশরাক হোসেন আরও স্মৃতিচারণ করে বলেন, জুলাইয়ের রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ও সরকার পতনের পরবর্তী সময়ে কারাগারে থাকাকালেও উভয় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর সংহতি বজায় ছিল। সেই সময়ে গড়ে ওঠা পারস্পরিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক ঐক্য বর্তমান প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনে সুস্থ ও স্বাভাবিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকাটাই গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ।

তবে বর্তমানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দল ও তাদের অঙ্গ-সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কুরুচিপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদান করা হচ্ছে, যা অবাধ নির্বাচনী পরিবেশের জন্য চরম উদ্বেগজনক। সকল উসকানি উপেক্ষা করে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে অবস্থান করার বিষয়ে উভয় দলের নেতাকর্মীরা একমত পোষণ করেন। পরবর্তী সময়ে ইশরাক হোসেন ও ফখরুল ইসলাম নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় যৌথ গণসংযোগে অংশ নেন।

#রাজনীতি #নির্বাচন #ঢাকা #বাংলাদেশ