ভোটাধিকার রক্ষায় জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান: মির্জা আব্বাসের নির্বাচনি বার্তা
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। রাজধানী ঢাকার শাহবাগ এলাকার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও বিআইডব্লিউটিসি শ্রমিক দল আয়োজিত এক নির্বাচনি মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য এক বড় পরীক্ষা, তাই জনগণকে নিজ দায়িত্বে কেন্দ্র রক্ষা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সোচ্চার হতে হবে।
ষড়যন্ত্র মোকাবিলা ও রাজপথের আন্দোলন
মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপি সুদীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় দলটি নিজস্ব শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী জোট ও সহযোগী দল থাকা সত্ত্বেও বিএনপি-র রাজনৈতিক উত্থান ও জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী অপপ্রচার চালাচ্ছে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই নানা কৌশলে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দলকে দোষী সাব্যস্ত করার একটি নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার নেতাকর্মী গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এত ত্যাগ ও প্রতিকূলতার পর যখন নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই একটি মহল নতুন করে ষড়যন্ত শুরু করেছে। তবে দেশের সচেতন জনগণ এসব চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঐতিহাসিক নেতৃত্ব ও বিএনপি গঠন
দলের নেতৃত্বের ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দলের সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন দূরদর্শী নেতৃত্বে বিএনপি গণমানুষের বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হয়। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে চলেছে। তিনি মন্তব্য করেন, “দলে সাময়িকভাবে নেতৃত্বের অভাব দেখা দিলেও বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সেই শূন্যতা কখনো বুঝতে দেননি।” নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় আগামী দিনেও এই ধারাক্রম অব্যাহত থাকবে।
তরুণ প্রজন্মের জন্য আত্মকর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন
সভায় ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি নিজের অধিকার আদায়ে নিজেদের সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দেন। বিশেষ করে দেশের যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিয়ে মির্জা আব্বাস নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তরুণদের কেবল চাকুরির ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। চাকরি সবসময় চূড়ান্ত সমাধান হতে পারে না, বরং তরুণদের এমনভাবে আত্মনির্ভরশীল ও দক্ষ হয়ে উঠতে হবে যাতে তারা ভবিষ্যতে শত শত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি গভীর ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে দেশে শিক্ষাগত যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না। একজন প্রকৌশলী বা চিকিৎসক যখন ব্যাংকে চাকরির জন্য আবেদন করেন, তখন তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি পরামর্শ দেন যে, প্রকৌশলীদের উচিত তাদের অর্জিত শিক্ষা জাতির অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজে লাগানো এবং চিকিৎসকদের উচিত তাদের জ্ঞান দিয়ে সাধারণ রোগীর সেবা করা। নিজেকে ও দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দেন তিনি।
দিনের কর্মসূচি শেষে বিকেলে বিজয়নগর স্কাউট মার্কেটে নির্বাচনি ক্যাম্প উদ্বোধন করেন মির্জা আব্বাস। পরে তিনি স্থানীয় পিঠা উৎসবে যোগ দেন এবং রাতে পল্টন এলাকায় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
#রাজনীতি #নির্বাচন #বাংলাদেশ #মির্জা_আব্বাস