নির্বাচনে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক ও একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিবর্গকে নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দল বিএনপি-র পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের এই সিদ্ধান্তের কথা একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে তাদের অবহিত করা হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্যানেল তৈরি এবং চূড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপিকে পাঠানো চিঠির পটভূমি ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিএনপি-র কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যের কাছে এই লিখিত চিঠি পাঠানো হয়। এর আগে ১৭ জানুয়ারি দলটির পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাতহীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একখানা আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। উক্ত চিঠির সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনে সকল ধরনের বিতর্ক এড়াতে এবং সকল দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তা নিয়োগ সংক্রান্ত মাঠ পর্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশনা
কমিশনের চিঠিতে পূর্ববর্তী নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে জানানো হয় যে, গত ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে দেশের সকল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্যানেল তৈরির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল। সেই নির্দেশনায় স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের যে প্রাথমিক প্যানেল তৈরি করা হবে, সেখান থেকে বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাদ দিয়ে মূল প্যানেল প্রস্তুত করতে হবে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি সর্বসাধারণের পূর্ণ আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন সম্পাদন করা।
বিশেষ পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত দায়িত্ব
তবে কমিশনের পাঠানো চিঠিতে এটিও যুক্ত করা হয়েছে যে, কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যদি ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা বা উপযুক্ত জনবল না পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সুবিধার্থে জরুরি প্রয়োজনে “বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কড়া ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।” অর্থাৎ এটি সর্বজনীন কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং কেবল সংকটকালীন মুহূর্তের এক বিশেষ সুযোগ। চিঠিতে উল্লেখিত এই সকল নির্দেশনার আলোকে এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা করে সকল রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্যানেল ও নিয়োগ চূড়ান্ত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত নানা সংশয় অনেকাংশেই দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
#রাজনীতি #নির্বাচন #বাংলাদেশ #সংবাদ