নির্বাচনি সভায় হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

ঢাকা-১৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোট সমর্থিত প্রার্থী মো. আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানানো হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক আদিবের নির্বাচনি সভায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপি-র উদ্যোগে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল আয়োজিত হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নেতৃবৃন্দ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির মুখোমুখি করার জোর দাবি জানান।

বিক্ষোভ মিছিলের গতিপথ ও নেতৃত্ব

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকা-র বাংলামোটর এলাকায় অবস্থিত পার্টি অফিসের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি রাজপথ পরিক্রমা করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে ঘুরে পুনরায় বাংলামোটর গিয়ে শেষ হয়। উক্ত বিক্ষোভ মিছিলে মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ার এবং এনসিপি-র যুগ্ম আহ্বায়ক তথা ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী জাবেদ রাসিন সরাসরি নেতৃত্ব প্রদান করেন। মিছিলজুড়ে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং নির্বাচনি পরিবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সুষ্ঠু নির্বাচন ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর সংশয়

বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “রাজধানীর মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একজন গণঅভ্যুত্থানের শীর্ষ নেতার ওপর এ ধরনের হামলা আমাদের মধ্যে মারাত্মক আশঙ্কার সৃষ্টি করে।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং বিভিন্ন উপায়ে নির্বাচনি পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত করার একটি অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

প্রশাসনের নীরবতা ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাঠে এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলেও স্থানীয় প্রশাসন একেবারে নীরব ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের এই ধরনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে আসন্ন নির্বাচন কতটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও মারাত্মক সংশয় ও প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। আলাউদ্দীন মোহাম্মদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। একইসঙ্গে সারা দেশে অবস্থানরত সকল প্রার্থীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি, যাতে করে সব দল সমান সুযোগ পেয়ে একটি সুন্দর পরিবেশে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।

এই প্রতিবাদ সমাবেশের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন যে, তারা কোনো ধরনের দমন-পীড়ন বা ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার করবেন না। সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে তারা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

#রাজনীতি #নির্বাচন #বাংলাদেশ #সংবাদ