মসজিদের পাশাপাশি মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা চালুর প্রতিশ্রুতি জামায়াত প্রার্থীর

ঢাকা-৬ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান নির্বাচিত হলে এলাকা জুড়ে মসজিদের পাশাপাশি মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার এক বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পুরান ঢাকা-র গেন্ডারিয়া এলাকার দয়াগঞ্জ জেলেপাড়া-য় আয়োজিত একটি নির্বাচনি পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রসার ঘটানোর এক অনন্য বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রীতি ও সার্বিক উন্নয়নের বার্তা

পথসভায় ড. আব্দুল মান্নান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সমাজে কোনো নাগরিককে সংখ্যালঘু হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক, সবাই বাংলাদেশি।” ধর্মীয় সংঘাত এড়িয়ে এলাকার সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে বসবাস নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও মনে করেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশের কার্যক্রম চালু থাকলে সমাজে পরমতসহিষ্ণুতা ও সহনশীলতা অনেক গুণ বাড়বে। গেন্ডারিয়া-র সম্প্রীতি রক্ষায় এই ধরণের পদক্ষেপ এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখেই এলাকার অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব।

উক্ত সভায় এলাকার বহুসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় বিখ্যাত শ্রী শ্রী রক্ষা কালী মাতা বিগ্রহ কালীমন্দিরের সভাপতি শান্তি কুমার দাস। পুরো সভাটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন মন্দির কমিটির সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার দীপক কুমার দাস। এছাড়াও পথসভায় বক্তব্য প্রদান করেন জামায়াতে ইসলামী-র গেন্ডারিয়া থানা আমির গোলাম আজম। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের এই সমন্বিত অংশগ্রহণ কর্মসূচিটিতে এক অন্যরকম মাত্রা যোগ করে।

উঠান বৈঠক ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার

এর আগে একই দিনে গেন্ডারিয়া দক্ষিণ থানার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঢালকানগর এলাকায় এক বর্ণাঢ্য উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন থানা আমির তাওহিদুল ইসলাম মুকুল এবং সঞ্চালনায় ছিলেন থানা সেক্রেটারি মো. শফিউল্লাহ। বৈঠকে প্রার্থী আব্দুল মান্নান জানান যে, স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করাই তার প্রধান লক্ষ্য। জনগণের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করে এলাকার স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি পথ খুঁজতে চান। এ সময় এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজসেবকরা তাদের নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরেন এবং প্রার্থীর ওপর গভীর আস্থাশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী গণসংযোগ ও নিবিড় প্রচারণা

দিনব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে আব্দুল মান্নান সকাল থেকেই নর্থব্রুক হল রোড এবং ঐতিহাসিক বাংলাবাজার এলাকায় গণসংযোগ চালান। দোকানদার, পথচারী এবং স্থানীয় সাধারণ অধিবাসীদের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন ও ভোট প্রার্থনা করেন। প্রচারণাকালে তার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম। নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষের দুয়ারে গিয়ে তাদের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন এবং নির্বাচিত হলে একটি সুন্দর, চাঁদাবাজমুক্ত ও শান্তিময় এলাকা গঠনের অঙ্গীকার প্রকাশ করেন। স্থানীয় ভোটাররা এই ধরনের ব্যাপক প্রচারণাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

#নির্বাচন #রাজনীতি #ঢাকা #সম্প্রীতি