ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের বৈধতা দানকে ‘আইনের লঙ্ঘন’ দাবি জুলাই ঐক্যের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হিসেবে বৈধতা দেওয়াকে দেশের প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইনের চরম লঙ্ঘন বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন জুলাই ঐক্য। একই সঙ্গে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় পার্টি সহ ১৪ দল-কে জাতীয় নির্বাচনে সম্পূর্ণ অযোগ্য ঘোষণা করার জোর দাবি তুলে ধরেছে তারা। রাজধানী ঢাকা-র জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এসব দাবি ও নানা উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সারা দেশে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং একটি সর্বজনগ্রাহ্য, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার স্বার্থে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য নির্বাচন কমিশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি কঠোর ও বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জুলাই ঐক্যের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক প্লাবন তারেক, জয়নাল আবেদিন শিশির, ইসরাফিল ফরাজী এবং মুন্সী বুরহান মাহমুদ।

চানখাঁরপুল হত্যা মামলার রায় প্রত্যাখ্যান ও আপিলের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি ঘোষিত চানখাঁরপুল হত্যা মামলার রায়কে চরম পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে তা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়। নেতৃবৃন্দ এই রায়ের বিরুদ্ধে অবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করার জন্য জোর দাবি জানান। জুলাই ঐক্যের নেতারা অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রের আইন ও বিধিবিধানকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের বড় একটি অংশকে প্রার্থী হওয়ার বৈধতা প্রদান করেছে নির্বাচন কমিশন।

তারা বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও সহ দেশের প্রচলিত আইনগুলোতে ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট ও কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ও আইনি বিধিনিষেধ সত্ত্বেও অসাধু প্রক্রিয়ায় এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন কমপক্ষে ৪৫ জন তালিকাভুক্ত ঋণখেলাপি প্রার্থী। একই ধরনের অভিযোগে ৬৮ জন প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হলেও এই ৪৫ জন ঠিকই আইনি প্রক্রিয়ার ফাঁক গলে বেরিয়ে গিয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও পক্ষপাতমূলক আচরণ।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ ও হুঁশিয়ারি

জুলাই ঐক্যের নেতারা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “নির্বাচন কমিশন নিজেদের ইচ্ছামতো মনোনয়নের বৈধতা প্রদান করছে, যা অত্যন্ত বিতর্কিত।” যারা জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে, দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে কিংবা দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে, তারা দেশের শাসনব্যবস্থায় প্রতিনিধিত্ব করবে—গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা অভিযোগ করেন, মুখে ইনসাফ ও সমতার কথা বললেও নির্বাচন কমিশন মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর মন জয় করতেই বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি গণহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকা এবং সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জাতীয় পার্টি, এনডিএফ এবং ১৪ দল-কে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে তারা দীর্ঘ দুই মাস ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছেন। এই দাবির প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট-এ রিট আবেদন করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

পরিশেষে তারা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে ফ্যাসিবাদের সহযোগী এসব দল ও তাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করা না হলে দেশের সাধারণ ছাত্র-জনতা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা রাজপথে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এর ফলে উদ্ভূত সকল সার্বিক পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়ভার নির্বাচন কমিশনকেই এককভাবে বহন করতে হবে।

#রাজনীতি #নির্বাচন #বাংলাদেশ #জুলাই_ঐক্য