ব্যালটে বিপ্লব সাধনের আহ্বান: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর ফুলতলা মোড়ে আয়োজিত এক জনসমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দেশের বর্তমান ও অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, বিগত ১৭ বছরের শাসনকালে দেশের সাধারণ মানুষ যে চরম অত্যাচার, নিপীড়ন ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, গত ১৬ মাসের অভিজ্ঞতায় তারা যেন তারই আরেকটি নতুন রূপ দেখতে পেয়েছেন। এই পরিস্থিতি থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তিনি রাজপথের সংঘর্ষ নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে এক ঐতিহাসিক বিপ্লব সাধনের জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আকুল আহ্বান জানিয়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ঐতিহাসিক ক্রান্তিকাল
আসিফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে জুলাই মাসের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও তাৎপর্য গভীরভাবে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ৫ আগস্ট দেশের সচেতন জনগণ তাদের অদম্য ঐক্য ও ত্যাগের মাধ্যমে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে তাকে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করেছিল। তবে সেই স্বৈরাচারের পতন ঘটলেও বৈষম্যহীন ও নিপীড়নমুক্ত সমাজ গড়ার আন্দোলন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তিনি বলেন, “আমাদের সামনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্রান্তিকাল বা ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উপস্থিত হয়েছে।” এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশকে চাঁদাবাজ, অপরাধী ও নিপীড়কমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সংস্কার এবং আগামী নির্বাচনের কৌশলগত দিক
রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি ও ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল সব সময় নানা ধরনের রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিল। কিন্তু যখন বাস্তবে সেই সংস্কারগুলো কার্যকর করার উপযুক্ত ও ঐতিহাসিক সময় উপস্থিত হলো, ঠিক তখনই তারা তাদের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ পিছু হেঁটে নীরব ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে পরাজিত পুরোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে নতুন এক ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর গোপন ঐক্য তৈরি হয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এই কারণে আসিফ মাহমুদ সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট প্রতীকের অন্ধ ভক্ত না হয়ে, যারা বাস্তবিক অর্থে দেশের গণমানুষের সত্যিকারের মুক্তি এনে দিতে পারবে, তাদের পক্ষেই রায় দেওয়া উচিত। তিনি জনগণকে আহ্বান জানান যেন তারা কোনো নির্দিষ্ট মার্কার প্রতি অনুগত না থেকে, দেশের সার্বিক কল্যাণ ও মৌলিক সংস্কার নিশ্চিত করতে ১১ দলীয় জোটকে নিজেদের মূল্যবান ভোট দিয়ে বিজয়ী করেন।
ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন
বক্তব্যের শেষ অংশে আসিফ মাহমুদ পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, স্বৈরাচারী ও নিপীড়ক শক্তির এই ঐক্যবদ্ধ চক্রান্তকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিতে হবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ হলো ব্যালট পেপার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সঠিক রায় প্রদান করে দেশের সংস্কারপন্থী শক্তি এবং ১১ দলীয় জোটকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে দেশের সকল অপশক্তির চূড়ান্ত পরাজয় নিশ্চিত করার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #এনসিপি #সংবাদ