চট্টগ্রামকে দক্ষিণ এশিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ার প্রতিশ্রুতি

চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বন্দরনগরীকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনি গণসংযোগকালে তিনি বলেন, আগামী দিনে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই পুরো অঞ্চলকে একটি বিশ্বমানের লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে রূপান্তর করা হবে।

গণসংযোগে নানা প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা

বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ সদস্য গোসাইলডাঙ্গা এলাকার বন্দর নিমতলা খালপাড় থেকে তার নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি পূর্ব ও পশ্চিম নিমতলা, সিডিএ ৯ নম্বর ব্রিজ, রোহিঙ্গাপাড়া, হিন্দুপাড়া এবং ফকিরহাটসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গণসংযোগকালে তিনি দলের রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরে জানান, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

আমীর খসরু তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “চট্টগ্রাম বন্দর ও সংলগ্ন সমুদ্র অঞ্চল কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, পাশের দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য এই বন্দরের মাধ্যমেই আবর্তিত হবে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেও একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপ দেওয়া হবে।

লজিস্টিক হাব ও স্বাভাবিক বাণিজ্যিক রাজধানী

ভবিষ্যৎ অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই নেতা জানান, বন্দর ও বিমানবন্দর ঘিরে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ওয়্যারহাউজ, কনটেইনার ডিপো, আন্তর্জাতিক মানের শিপিং সার্ভিস ও লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এর ফলে পুরো অঞ্চলটি একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে, যা দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া-র দেশগুলোর বাণিজ্যিক চাহিদার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নেবে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, অঞ্চলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই দেশের মূল ট্রেডিং পোস্ট ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেন্টার হয়ে উঠবে। উৎপাদন, রপ্তানি, আমদানি ও পণ্য বিতরণের মূল কেন্দ্র হিসেবে এটি আত্মপ্রকাশ করবে। ফলস্বরূপ, কৃত্রিমভাবে আলাদা কোনো বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার প্রয়োজন হবে না, বরং স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই এটি দেশের কার্যকর বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের আস্থার রাজনীতি

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই লড়াই কেবল একটি আসনে জয়লাভের প্রতিযোগিতা নয়; এটি মূলত গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার এক সুসংগঠিত সংগ্রাম। তিনি সকলকে সুশৃঙ্খলভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে তাদের সমস্যার কথা শোনার এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ দেখানোর আহ্বান জানান। শোডাউন বা চিৎকার-চেঁচামেচির রাজনীতি এড়িয়ে চলে জনগণের আস্থার রাজনীতি চর্চা করার পরামর্শ দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষভাগে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের দল কখনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা ভুয়া প্রোপাগান্ডার আশ্রয় নেয় না। তারা সবসময় জনগণের আস্থায় বিশ্বাসী এবং জনগণের ক্ষমতা নিয়ে জনসেবা করতেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের যেকোনো গণতান্ত্রিক সংকটে দলটি সর্বদা পাহারাদারের ভূমিকা পালন করেছে। তাই সঠিক সময়ে সাধারণ জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে উপযুক্ত রায় প্রদান করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

#চট্টগ্রাম #রাজনীতি #বাণিজ্য #নির্বাচন