জনগণের ভোটই ক্ষমতার একমাত্র উৎস: মির্জা আব্বাস

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, জনগণের ভোটই ক্ষমতার একমাত্র উৎস। কোনো দল বা গোষ্ঠী কাউকে আসন দেওয়ার মালিক নয়; মহান আল্লাহ ও জনগণই একমাত্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী। নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি আরও জানান, মালিবাগ, মমিনবাগ এবং শাহজাহানপুর এলাকার জনগণ অতীতে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে যেভাবে তাকে ভালোবেসে ভোট দিয়েছিলেন, এবারও তারা দল ও প্রার্থীর অতীত কার্যক্রম বিবেচনা করে ধানমন্ডির ঐতিহ্যকে ধারণ করে আবারও নির্বাচিত করবেন। এছাড়া তিনি শাহবাগ আনন্দবাজার এলাকা এবং আশপাশে গণসংযোগের বিষয়েও আশা প্রকাশ করেন।

প্রতিপক্ষের মন্তব্য ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বক্তব্য

জামায়াতে ইসলামী-র সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জামায়াতের আমির ফ্যামিলি কার্ড ও কর্মসংস্থান নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তারা বলছেন বেকার ভাতা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন; তবে বিষয়টি জনগণই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করবে। অন্যদিকে জামায়াত-এর এক প্রার্থী দাবি করেছেন যে ঢাকা শহরের সব আসন সাইজ করা হবে এবং প্রতিপক্ষকে একটি আসনও দেওয়া হবে না। এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, “সিট দেওয়ার মালিক তারা কে? সিট দেওয়ার মালিক আল্লাহ ও জনগণ। জনগণের ইচ্ছার ওপর কথা বলা চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও অগণতান্ত্রিক আচরণ।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, তারা এসব কথা বলার সাহস কোথায় পায়?

মির্জা আব্বাসের মতে, বর্তমানে একটি বিশেষ অপশক্তি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে গোপন কোনো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তবে সচেতন জনগণ সব ধরনের অশুভ চক্রান্ত প্রতিহত করবে। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ে অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। অপপ্রচারকারীরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মিথ্যা ডকুমেন্টারি বানাচ্ছে এবং বট দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ভরিয়ে ফেলছে, যার কোনো সত্যতা নেই। এই শ্রেণির মানুষরা ইতিহাসের নানা সময়ে জাতির সামনে মিথ্যাচার করেছে এবং তারা দেশের কখনো কোনো উপকারে আসেনি।

অতীতের ইতিহাস, ষড়যন্ত্র প্রতিহত ও এলাকার উন্নয়ন ভাবনা

নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “আমি চাই নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু, অবাধ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক। কিন্তু কিছু দলের বিতর্কিত কথাবার্তা এবং সরকারের একটি বিশেষ মহলের সন্দেহজনক আচরণে মনে হচ্ছে ‘সামথিং ইজ রং’।” তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ-এর মানুষ সবসময় সচেতন ও প্রতিবাদী। ১৯৭১ সালে খালি পায়ে লুঙ্গি পরে জনগণ যেভাবে শক্তিশালী পাকবাহিনীকে পরাজিত করেছিল, ঠিক সেভাবেই স্বৈরাচারী শাসক প্রতিহত হয়েছে এবং আগামীতেও সব চক্রান্ত নস্যাৎ হবে।

নিজের নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস আক্ষেপ করে বলেন, গত ১৭ বছরে আমার পুরো এলাকাকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। মাদক, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাস এই তিনটি সামাজিক ব্যাধি এলাকাটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই ধ্বংসাত্মক ব্যাধিগুলো থেকে এলাকাকে রক্ষা করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি ও তার প্রধান অগ্রাধিকার। পরিশেষে তিনি নিজের বিজয়ের ব্যাপারে পূর্ণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং জানান যে তিনি সততার সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, বাকি সিদ্ধান্ত জনগণের এবং আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #বিএনপি #ঢাকা