নির্বাচনি প্রচারণায় চাঁদাবাজ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে ভোটের আহ্বান
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে চাঁদাবাজ এবং জমিদার প্রথার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক রায় দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। পুরান ঢাকা-র ঐতিহাসিক ধূপখোলা মাঠে আয়োজিত এক বিরাট রাজনৈতিক জনসভায় ১১ দলীয় জোটের নেতারা এই বার্তা দেন। আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান বক্তা ও জোটের শীর্ষ নেতারা আগামী দিনে একটি শোষণহীন, উন্নত ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জোটের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং চাঁদাবাজির মতো অপকর্মের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এক শীর্ষ নেতা বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম অতীতের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি।” তিনি অভিযোগ করেন যে, সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে। তাই আগামী নির্বাচনে শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে এই অপশক্তির হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ সুগম করতে হবে। একই সঙ্গে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত দাবি করে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানানো হয়।
তরুণ সমাজ, কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্র সংস্কার ভাবনা
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র শীর্ষ নেতা দেশের তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ ও সামাজিক সংস্কার নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, দেশের তরুণ শক্তিকে সচল ও কর্মক্ষম রাখা রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রধান দায়িত্ব।
বেকার ভাতার পরিবর্তে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি
জামায়াত প্রধান তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা তরুণদের কেবল বেকার ভাতা দিয়ে বসিয়ে রাখতে চাই না। রাষ্ট্রের ধনসম্পদ থাকলেও বেকার ভাতা দেওয়া সঠিক সমাধান নয়, কারণ এতে আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি হয় না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভাতা নয়, কাজের সুযোগ তৈরি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। যুব সমাজকে মাদকের ছায়া ও বৈষম্যমূলক পরিবেশ থেকে বের করে এনে এক সুশৃঙ্খল নাগরিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। গত কয়েক দশকে যারা দেশ শাসন করেছে তারা সমাজে কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
গণভোট ও নির্বাচনি শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান
আসন্ন গণভোট এবং সার্বিক নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়।
গণভোটের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে জোটের নীতি নির্ধারকরা বলেন, “হ্যাঁ মানে আজাদি এবং না মানে গোলামি।” তারা স্পষ্ট জানান যে দেশ ও জাতির চূড়ান্ত স্বাধীনতার স্বার্থে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। জনসভায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নোংরা রাজনীতি দূর করে কাজের উপযোগী রাজনৈতিক পরিবেশ ফেরাতে হবে। নতুন দেশে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে কোনো বিচারিক বৈষম্য থাকবে না বলে সবাই অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #সংবাদ