ভোটের অধিকার রক্ষায় নেতাকর্মীদের প্রাক-ভোর অবস্থানের আহ্বান: তারেক রহমান
চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত এক সুবিশাল নির্বাচনি জনসভায় বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষের ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষার লক্ষ্যে এক অভূতপূর্ব কৌশলগত জাতীয় আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “ভোটের দিন প্রত্যুষে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে নিজ নিজ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে হবে এবং ফজরের নামাজ শেষে লাইনে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের প্রস্তুতি নিতে হবে।” দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক অধিকার পুনপ্রতিষ্ঠার এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সাধারণ মানুষের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।
ষড়যন্ত্র নস্যাৎ ও নাগরিক সতর্কতার আবশ্যকতা
সমাবেশের শুরুতে তিনি উপস্থিত বিপুল গণমানুষের সঙ্গে স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় কুশল বিনিময় করে এক হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেন। পরবর্তীতে মূল আলোচনায় উঠে আসে বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক নিপীড়ন ও বর্তমান ষড়যন্ত্রের চিত্র। তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার হরনের পুরনো কৌশল আবারও সক্রিয় করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে হলে সচেতন নাগরিক সমাজকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। দেশের প্রতিটি ভোটারের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের প্রধান ভিত্তি।
সুশাসন, দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন
জনসভায় আগামী দিনের সরকার পরিচালনার নীতিগত রূপরেখা তুলে ধরা হয়। তারেক রহমান স্পষ্ট জানান যে, জনগণের সরকার গঠিত হলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই প্রাধান্য পাবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতির মূল উৎপাটনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না। অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও নিরপেক্ষতার সাথে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার দৃপ্ত অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা
চট্টগ্রাম-কে দেশের প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত পুনর্নবীকরণ করা হয়। বেগম খালেদা জিয়ার গৃহীত সেই রূপকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতিকে এক নব দিগন্তে উন্নীত করার অঙ্গীকার করা হয়। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব হ্রাস করা হবে। তাছাড়া শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ, স্থানীয় বন্দরের আধুনিকায়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল করার বিস্তারিত রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
সামাজিক নিরাপত্তার মান উন্নয়নে তৃণমূল পর্যায়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের যুগান্তকারী পরিকল্পনা পেশ করা হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কৃষিভিত্তিক খাল খনন পুনঃসূচনা এবং নতুন ইপিজেড স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তারেক রহমান ঘোষণা করেন, সমতল ও পাহাড়ি সকল জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে চায় বিএনপি। ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সকলে মিলে অগ্রযাত্রার এই পথ পাড়ি দেবে। সমাবেশে সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে ২৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা আত্মপ্রকাশ করেন, যা এক ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অভিযাত্রার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #চট্টগ্রাম #নির্বাচন