পলোগ্রাউন্ডে তারেক রহমানের বক্তব্য: পরিবর্তন ও রাজনৈতিক অধিকারের আহ্বান

চট্টগ্রাম-এর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানে আয়োজিত বিশাল জনসভায় স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় উপস্থিত জনতার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, “অনেরা ক্যান আছন?” প্রত্যুত্তরে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হাজার হাজার জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমস্বরে গর্জে উঠে জানান দেন, “ভালা আছি”। এই উষ্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ আলাপের মধ্য দিয়ে তিনি তার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য শুরু করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান দেশের সাধারণ মানুষ পরিবর্তন এবং নিজেদের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেতে অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে আছে। আমাদের সকলকে অনতিবিলম্বে পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, কারণ অনবরত অন্ধ সমালোচনা ও বৈরিতার মধ্যে থাকলে দেশের সাধারণ মানুষের বাস্তবিক কোনো সামাজিক বা অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দলটির অতীত শাসনকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকাকালীন প্রতিটি মেয়াদেই সাধারণ মানুষের সার্বিক ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে গেছে।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক ভবিষ্যৎ রূপরেখা

জাতীয় শিক্ষাখাত প্রসঙ্গে গভীর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, কেবল ঐতিহ্যগত পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনই যথেষ্ট নয়, বরং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাস্তবসম্মত জ্ঞান অর্জনের দিকেই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া আবশ্যক। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসলে তার দল কেবল আনুষ্ঠানিক সনদ সর্বস্ব শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি সম্পূর্ণ কর্মসংস্থানভিত্তিক আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলবে বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে সুন্দর স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, বন্দরনগরীর সাথে তার পরিবারের এক গভীর ও অচ্ছেদ্য আবেগঘন সম্পর্ক বিদ্যমান। এই বীর চট্টলা থেকেই জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এই পবিত্র মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এছাড়া বেগম খালেদা জিয়াকে ঐতিহাসিক ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল এই মাটিতেই।

নারী ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন

নারী প্রগতি প্রসঙ্গে আলোকপাত করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের বিশাল নারী সমাজকে পেছনে ফেলে সার্বিক জাতীয় অগ্রগতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বেগম খালেদা জিয়ার প্রগতিশীল সরকারের আমলে মেয়েদের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিল। আগামী দিনে প্রান্তিক ও দূরবর্তী অঞ্চলের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে সর্বাত্মক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সুবিধা সুনিশ্চিতভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে। সমাবেশ ঘিরে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সুবিশাল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় এবং সমগ্র এলাকা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সমর্থক নেতাকর্মীদের প্রবল উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #চট্টগ্রাম #বিএনপি