তারেক রহমানের নেতৃত্ব শক্তিশালী করার আহ্বান সালাহউদ্দিন আহমদের

চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি সমাবেশে বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন যে, দেশে চূড়ান্তভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বিক সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক ধারা অক্ষুণ্ণ রাখার ঐতিহাসিক আন্দোলনে বিএনপি লাগাতার ও ধারাবাহিকভাবে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই চলমান রাজনৈতিক সংগ্রামে তারেক রহমান মূলত দেশ রক্ষা ও পরম গণতন্ত্রের এক পরম প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এবং তাকে সামনে রেখে দলটি আগামী দিনের সব লড়াই পরিচালনা করবে।

সামাজিক নিরাপত্তা, ভাতা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ

আসন্ন নির্বাচনে জনগণের রায়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দেশের সার্বিক চিত্র বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, তাদের দল নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে সমাজ থেকে বেকারত্ব দূরীকরণে বেকার তরুণদের জন্য বিশেষ সরকারি ভাতা চালু করা হবে। এর পাশাপাশি দেশের প্রাণ কৃষি খাতকে চাঙ্গা করতে এবং মেহনতী কৃষকদের সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করতে আধুনিক ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। শুধু তাই নয়, সমাজের আপামর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নয়নের উদ্দেশ্যে সার্বিক স্বাস্থ্য সেবা সহজলভ্য করতে বিশেষ স্বাস্থ্য কার্ড এবং প্রতিটি পরিবারের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড দ্রুত বিতরণের এক বিশাল বিস্তৃত ও সময়োপযোগী মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন

দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিষটি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমাদের দেশের বিদ্যমান শিক্ষা কাঠামোতে যুগান্তকারী ও মৌলিক সংস্কার আনয়ন করা জরুরি, যাতে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর এবং অত্যন্ত দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়।” তিনি আরও যোগ করেন, একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক আধুনিক বিশ্বের সাথে সমান তালে পা মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে শিক্ষা ব্লু-প্রিন্টকে আরও বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী করার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

পণ্যভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির রূপরেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্টভাবে অবহিত করেন যে, দেশের বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে স্থানীয় সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে সুনির্দিষ্ট পণ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই বৃহৎ পদক্ষেপের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে এবং সার্বিক উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হলো প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য। সমাবেশ থেকে তিনি উপস্থিত সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #অর্থনীতি #চট্টগ্রাম