কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লা হত্যাকাণ্ডে মির্জা ফখরুলের তীব্র প্রতিবাদ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা হাসান মোল্লাকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কথা উল্লেখ করে অনতিবিলম্বে সন্ত্রাসীদের কঠোর হাতে দমন করার এবং জনমনে ছড়িয়ে পড়া ভয় ও আতঙ্ক দূর করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। নিহত হাসান ছিলেন কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপি-র অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সক্রিয় সাধারণ সম্পাদক।

হামলার বিবরণ ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে হযরতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থানকালে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হাসান মোল্লাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় নিবিড় চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৪ জানুয়ারি শনিবার বিকেল ৪টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এক শোক বার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, “দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লার অকাল মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ

মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী হাসান মোল্লা সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রভাগে থেকে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন যে, জাতীয়তাবাদী শক্তির একজন নিবেদিতপ্রাণ ও সক্রিয় কর্মী হওয়ার কারণেই তাকে সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি একটি গভীর ও সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

নির্বাচনী পরিবেশ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অসৎ উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ মহল এই ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা ও সরকারের অবহেলার কারণেই দেশে বারবার এমন নৃশংস ঘটনা ঘটছে।

তিনি অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, “অবিলম্বে এই খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। তা না হলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে জনগণের মনে তীব্র শঙ্কা দেখা দেবে।”

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #কেরানীগঞ্জ #বিএনপি #সংবাদ