কৃষি ও তাঁতশিল্পের উন্নয়ন এবং নারী নিরাপত্তার আশ্বাস: জামায়াত আমিরের বক্তব্য
সিরাজগঞ্জের ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, শিল্প খাতের বিকাশ, নারী অধিকার রক্ষা, নদী শাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জাতীয় সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দেন।
দুগ্ধজাত পণ্য রপ্তানি ও স্থানীয় শিল্প পুনরুজ্জীবন
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশ থেকে প্রচুর দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি করতে হয়। তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন যে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে সিরাজগঞ্জের গরুর দুধ থেকে মানসম্পন্ন গুঁড়া দুধ তৈরি করে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এর পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে পুনরায় জীবিত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করার আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।
নারীদের মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তার শতভাগ নিশ্চয়তা
বিরোধীদের নানা প্রচারণাকে বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অনেকে অপপ্রচার চালায় যে ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে নারীদের ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না কিংবা তাদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হবে। এসব বক্তব্যকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ইসলামের ইতিহাসে মহানবী (সা.) নারীদের মহান কাজের সুযোগ দিয়েছেন এবং যুদ্ধের মতো কঠিন পরিস্থিতিতেও মায়েরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সুতরাং, সমাজে নারীদের কাজ করার সুযোগ অব্যাহত থাকবে। নারীদের শিক্ষা, মর্যাদা এবং সামাজিক নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও সমালোচনা করে বলেন, যারা আজ নীতি কথা বলে, তাদের শাসনামলেই বিভিন্ন স্থানে নারীরা চরম লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন।
টেকসই অবকাঠামো ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
আঞ্চলিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যমুনা নদী সঠিকভাবে খনন করে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হবে। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের নিম্নমানের উপাদান বা বাঁশ ও ছাই ব্যবহার করা হবে না। কাজের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে সমস্ত সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে, যাতে কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী গোষ্ঠী দুর্নীতি করতে না পারে।
দুর্নীতি দমনের বিষয়ে জামায়াত আমির অত্যন্ত কঠোর বার্তা প্রদান করে বলেন, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনুকম্পা দেখানো হবে না। “আমরা সাধারণ চুনোপুঁটিদের পেছনে না ছুটে সরাসরি বড় বড় দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।” এতে করে সমাজ ও রাষ্ট্রে অপরাধ দ্রুত হ্রাস পাবে।
রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণভোটের আহ্বান
সংবাদ ও বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, টেকসই পরিবর্তনের জন্য জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। গণভোটে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার অর্থ হলো অন্যায়ের বিচার সুনিশ্চিত করা, শহীদের আত্মত্যাগের মর্যাদা দেওয়া, দেশে ফ্যাসিবাদের চিরতরে অবসান ঘটানো এবং সর্বপ্রকার বৈদেশিক আধিপত্য থেকে মুক্ত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করা।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সিরাজগঞ্জ #নির্বাচন