ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের সামাজিক মানোন্নয়নে বিশেষ নির্বাচনী রূপরেখা
আগামী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দেশের সকল শ্রদ্ধেয় খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক জীবনযাত্রার মান লক্ষণীয়ভাবে উন্নয়নে একটি অত্যন্ত বিস্তৃত, সর্বজনীন ও কল্যাণমুখী রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে বিএনপি। এই সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ও জনকল্যাণমূলক সামাজিক পরিকল্পনার মূল বার্তা সংবলিত বিশেষ উন্নয়নমূলক প্রচারপত্র বা লিফলেট সাধারণ ভোটারদের দোরগোড়ায় স্বশরীরে পৌঁছে দিতে ব্যাপক মাঠপর্যায়ের সচেতনতামূলক কাজ শুরু করেছেন বিভিন্ন আসন থেকে মনোনীত দলীয় প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকরা। সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এই সুনির্দিষ্ট সামাজিক অঙ্গীকারটি সাধারণ মানুষের মাঝে বিশেষ আলোড়ন ও গুরুত্ব লাভ করেছে।
মাসিক সম্মানী ও প্রাতিষ্ঠানিক চাকরিবিধি প্রণয়ন
ঘোষিত এই বিস্তৃত নির্বাচনী পরিকল্পনার প্রথম ও অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো সামাজিকভাবে চরম সম্মানিত হওয়া সত্ত্বেও আর্থিকভাবে অনগ্রসর খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি তহবিল থেকে নিয়মিত মাসিক সম্মানী ভাতা সুনিশ্চিত করা। এই দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা তাদের মৌলিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং পরিবার পরিজনের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।
এর পাশাপাশি, বিভিন্ন স্থানীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত, খামখেয়ালিপনা কিংবা চাকরি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা চিরতরে নিরসন করতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ‘সার্ভিস রুল’ বা পূর্ণাঙ্গ চাকরিবিধি প্রণয়ন করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের পেশাগত স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে নিয়োগ এবং অব্যা্হতির ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষাও সুদৃঢ় হবে।
কারিগরি দক্ষতা, আধুনিক কর্মসংস্থান এবং গণশিক্ষা প্রসার
ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি এই সম্মানীয় বিশাল সামাজিক শ্রেণিকে বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কারিগরি ও বৃত্তিমূলক নানা প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো তারা যেন অত্যন্ত সম্মানের সাথে নিজস্ব বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করে নিজেদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
উল্লেখ্য যে, ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সফলভাবে শুরু হওয়া সুপরিচিত ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ সারা দেশে আরো বিস্তৃত, শক্তিশালী ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সম্প্রসারিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপে প্রাক-প্রাথমিক ও বয়স্ক শিক্ষার হার জাতীয় পর্যায়ে আরো বেগবান হবে।
উৎসব ভাতা, সামাজিক নেতৃত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি
অন্যান্য পেশাজীবীদের মতোই দেশের মূলধারার ধর্মীয় সেবকদের জন্য বিশেষ ধর্মীয় উৎসবগুলোতে রাষ্ট্রীয় অনুদান ও উৎসব ভাতা সুনিশ্চিত করা হবে। একইসাথে সরকারি রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তাদের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা প্রসারিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে আলেম-ওলামাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে স্থানীয় সামাজিক বিচারে তাদের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া এই ভাবনার অন্যতম মূল লক্ষ্য।
পরিশেষে, এই রাজনৈতিক পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বৈচিত্র্যময় ও প্রশংসনীয় দিক হলো এটি কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের জন্য সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বরং দেশের অন্যান্য সকল ধর্মীয় সম্প্রদায় যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্যও একই ধরনের মর্যাদা, সম্মানী ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার সুনির্দিষ্ট কথা অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। একটি বৈষম্যহীন, সম্প্রীতিময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অসাম্প্রদায়িক ‘রেইনবো নেশন’ বা রামধনু সমাজ পুনর্গঠনে এই সার্বজনীন নীতি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
#রাজনীতি #নির্বাচন #বাংলাদেশ #সমাজকল্যাণ #জাতীয়তাবাদ