দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান: নির্বাচন কেন্দ্রিক বিশাল জনসভার প্রস্তুতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় সরাসরি অংশ নিতে অবশেষে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৪ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে একটি বিশেষ বিমানে করে তিনি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। দলীয় প্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীসহ আশপাশের জেলাগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৫ জানুয়ারি রোববার ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনি জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন।
সফরসূচি ও পলোগ্রাউন্ড মাঠের ঐতিহাসিক জনসভা
ঘোষিত সময়সূচি ও দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তারেক রহমান রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে ভাষণ দেবেন। এই নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পর ওই দিন বিকেলেই তিনি পুনরায় চট্টগ্রাম ত্যাগ করার কথা রয়েছে। আয়োজক কমিটির শীর্ষ নেতারা অত্যন্ত দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, পলোগ্রাউন্ডের বিশাল প্রাঙ্গণে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। পুরো কর্মসূচি অত্যন্ত সুসংগঠিত, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দুই দশকের দীর্ঘ বিরতি ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
রাজনৈতিক ইতিহাসে এই সফরের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে তিনি বিএনপি-র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেই সফরের পর দীর্ঘ সময় ধরে তাকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিস্থিতির কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করতে হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি-র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে তার এই প্রথম সফর। তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতারা এই ঐতিহাসিক সফরকে তার জাতীয় রাজনৈতিক ভূমিকার এক নতুন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের শুভ সূচনা হিসেবে দেখছেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের ব্যাপক উৎসাহ ও নির্বাচনি বার্তা
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তারেক রহমানের সরাসরি আগমনকে ঘিরে সমগ্র চট্টগ্রাম অঞ্চলে দলটির সাংগঠনিক কাঠামোতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শহরের মূল সড়কগুলোতে ব্যানার ও ফেস্টুনে সুসজ্জিত করা হয়েছে। দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, এই জনসভা কেবল নির্বাচনি প্রচারের অংশ নয়, বরং দেশের সার্বিক রাজনীতিতে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জাতীয় নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জনসভা সফল করতে ইতোমধ্যে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে একাধিক প্রস্তুতি সভা ও তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই নির্বাচনি জনসভাকে এক অনন্য মাত্রা দেবে বলে স্থানীয় বিএনপির উর্ধ্বতন নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে সরাসরি কাছে পেয়ে স্থানীয় জনতা ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশ শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #চট্টগ্রাম #নির্বাচন