আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্নীতি দমনই রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান অগ্রাধিকার: তারেক রহমান
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভাবনীয় উন্নয়ন এবং সর্বগ্রাসী দুর্নীতি প্রতিরোধ—এই দুটি মৌলিক বিষয়কে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র সফলভাবে মোকাবিলা ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে দেশের অন্যান্য অধিকাংশ জটিল সমস্যা আপনা-আপনি সমাধানের সঠিক পথে চলে আসবে। সম্প্রতি ঢাকা শহরের গুলশানে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার তরুণ বিজয়ীদের সঙ্গে বিশেষ খোলামেলা আলাপচারিতায় তিনি নিজের রাজনৈতিক ভাবনা ও দেশের ভাবিষ্যৎ পুনর্গঠনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন। উক্ত আলোচনায় তার সঙ্গে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান উপস্থিত থেকে তরুণদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে সংস্কার
তারেক রহমান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ হবে সার্বিক ল’ অ্যান্ড অর্ডার নিশ্চিত করা।” দেশের যেকোনো নাগরিক যেন যেকোনো সময় রাস্তায় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মূল দায়িত্ব। একই সঙ্গে সমাজের সর্বস্তরে বিস্তৃত দুর্নীতিকে কঠোর হাতে শক্তভাবে মোকাবিলা করার ওপর জোর দেন তিনি। দেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের অধীনে প্রায় ১৩৮টির মতো সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প বিচ্ছিন্নভাবে চালু রয়েছে। এ ধরনের অসংগঠিত ব্যবস্থার কারণে সম্পদের ব্যাপক অপচয় ঘটে এবং সঠিক মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে না। এই বিচ্ছিন্নতাকে পরিহার করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সকল সামাজিক সুযোগ-সুবিধাকে একটিমাত্র সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার রূপরেখা তিনি প্রকাশ করেন। এই কার্ড হবে সম্পূর্ণ সর্বজনীন, যার মাধ্যমে কৃষক, শ্রমিক কিংবা নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে শুরু করে সব স্তরের মানুষ রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।
গুণগত শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ ও শিশুদের মানসিক বিকাশ
অনলাইন হ্যারাসমেন্ট, সাইবার বুলিং ও সমাজজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অবক্ষয় রোধে মূল সমাধান শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের সুষ্ঠু চর্চার মাঝেই নিহিত বলে মনে করেন বিএনপি প্রধান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তাদের লক্ষ্য থাকবে অবকাঠামোগত বড় ভবন নির্মাণের চেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক তৈরি করা। ছোটবেলা থেকে শিশুদের সৎ, নীতিবান ও মানবিক গুণসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। শিশুদের আধুনিক ডিজিটাল আসক্তি ও নেতিবাচক কনটেন্ট থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া, গান, আবৃত্তি ও তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির সঙ্গে খেলাধুলা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়াও অনলাইন হয়রানি বন্ধে ডিজিটাল শিক্ষা, রিপোর্টিং সিস্টেম এবং কমিউনিটি ভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ঢাকার যানজট নিরসন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও মনোরেল ব্যবস্থা
রাজধানী ঢাকা শহরের মারাত্মক যানজট নিরসনে দ্রুত প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবার বিকেন্দ্রীকরণকে একমাত্র কার্যকর মাধ্যম বলে মনে করেন তারেক রহমান। ঢাকার ওপর চড়াও হওয়া বাড়তি জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ কমাতে জেলা শহরগুলোকে উন্নত ‘স্যাটেলাইট টাউনে’ রূপান্তর করার কথা তিনি তুলে ধরেন। দ্রুতগতির আধুনিক ট্রেন ব্যবস্থার সাহায্যে এক ঘণ্টার মধ্যে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে যাতায়াতের সুযোগ থাকলে রাজধানীর ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য মনোরেল প্রকল্প প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জাতীয়তাবাদ