খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকার পথে নেতাকর্মীদের ঢল: মেট্রোরেলই প্রধান ভরসা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় ও জানাজায় অংশ নিতে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে রাজধানী ঢাকা-য় জড়ো হচ্ছেন লাখ লাখ সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। যানজট, অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক বিলম্ব এবং ভিআইপি চলাচলের কারণে সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে নির্ধারিত সময়ের আগেই জানাজাস্থলে পৌঁছাতে নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ মেট্রোরেলকে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের যাত্রা ও প্রস্তুতি

চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বন্দর থানা বিএনপি-র সভাপতি হাসান মুরাদের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম থেকে আসা নেতাকর্মীদের একটি বড় দল সকালে ট্রেনে করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে নামেন। সেখানে নেমে সময় বাঁচাতে তারা সরাসরি মতিঝিল মেট্রো স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে চেপে খামারবাড়ি স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তারা জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার মানিক মিঞা অ্যাভিনিউ-তে দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিতব্য জানাজায় অংশ নিতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে হাসান মুরাদ বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে এসে আমরা কমলাপুরে নেমেছি। দ্রুততম সময়ে জানাজাস্থলে পৌঁছাতেই আমরা মেট্রোরেলে উঠেছি। আমাদের জেলা ও বিভিন্ন থানার অনেক নেতাকর্মী ইতোমধ্যে মেট্রোরেল ব্যবহার করে জানাজাস্থলে অবস্থান নিচ্ছেন।”

একইভাবে খুলনা থেকে ভোরের বাসে রওনা দিয়ে সকালে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পৌঁছান বিএনপি কর্মী সৈকত। তিনি যোগাযোগের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “সাধারণ লোকাল বাস কিংবা সিএনজি অটোরিকশায় গেলে ভিআইপি মুভমেন্ট এবং ডাইভারশনের কারণে সড়ক বন্ধ থাকার তীব্র আশঙ্কা থাকে। এতে সময়মতো জানাজায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে যেত। তাই দ্রুত এবং কোনো ঝামেলা ছাড়া পৌঁছানোর জন্য মেট্রোরেলকেই সবচেয়ে কার্যকর মনে করেছি।”

যানজট এড়াতে দ্রুততম যোগাযোগের উদ্ভাবনী পদক্ষেপ

অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার ট্রেনে চড়ে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন বিএনপি কর্মী এনায়েতুর রহমান, সবুজ মিয়া ও নাজমুল হোসাইন। এনায়েতুর রহমান জানান, সড়কপথে বাসে এলে চরম যানজটে পড়ার ভয় ছিল। সেই কারণে তারা রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে সরাসরি কমলাপুর নামেন। দেশের মানুষের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রিয় আপসহীন নেত্রীর জন্য সবাই পরম করুণাময়ের দরবারে দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।”

গণপরিবহনের অন্যান্য মাধ্যমেও রাজধানীর পথে মানুষের আনাগোনা তীব্র রূপ নিয়েছে। দেশের বহু নেতাকর্মী লোকাল বাস, মোটরবাইক এমনকি ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়েও মানিক মিঞা অ্যাভিনিউয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় ৮০ বছর বয়সী তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনিজনিত জটিলতায় ভোগার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার শেষ বিদায়ে উপস্থিত হতে দ্রুততম সময়ে পৌঁছানোর তাগিদে ঢাকার মেট্রোরেল ব্যবস্থা সর্বস্তরের মানুষের কাছে নিরাপদ ও দ্রুততম মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #মেট্রোরেল