খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি স্থগিত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সরকার সারাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এই শোকাবহ পরিস্থিতিতে রাজপথের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি নিজেদের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দেশের সব ধরনের দলীয় কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছে। দলটির চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। শোক পালনের অংশ হিসেবে ঘোষিত সূচি অনুযায়ী দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটি পালন
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সর্বমোট তিন দিন রাষ্ট্রীয় শোক আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা হবে। শোক পালনের প্রথম দিনে সারাদেশে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, যার ফলে দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। টানা ৩৭ দিন হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের অন্যতম প্রবীণ এই শীর্ষ রাজনীতিক। তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা-র এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন।
শেষ শ্রদ্ধা, জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা
সকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে জিয়ার মরদেহবাহী গাড়ি অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে রাজপথ অতিক্রম করে গুলশান এলাকার দিকে যাত্রা শুরু করে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী মরদেহ তার দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন ‘ফিরোজা’-য় নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা তারেক রহমানের বাসভবনে নেয়া হয়। সেখানে প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হন এবং গভীর শ্রদ্ধায় শেষবিদায় জানান।
পরবর্তীতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মরদেহ বহনকারী বিশেষ গাড়িটি বিশাল শোভাযাত্রা সহকারে মানিক মিয়া এভিনিউ-তে নিয়ে আসা হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সুবিশাল জানাজায় অংশ নেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং লাখ লাখ সাধারণ অনুসারী। জানাজার নামাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়। দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে।
খালেদা জিয়ার এই প্রয়াণ দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। তার শাসনকাল, রাজনৈতিক আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তার অবদান দেশবাসী চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। রাজপথের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি যে শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি রেখে গেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এই মহান নেত্রীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক সভা আয়োজন করছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জাতীয়-শোক