খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করলেন নজরুল ইসলাম খান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সাবেক এই সফল রাষ্ট্রনায়ক সবসময় বলতেন, “বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, কিন্তু কোনো প্রভু নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, খালেদা জিয়া দেশের মানুষের কল্যাণে একের পর এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক সব কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তার সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ভাবনা ও রূপকল্পে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ইমার্জিং টাইগার হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল।
জানাজার পূর্বে জীবন, কর্ম ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাস উপস্থাপন
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজা অনুষ্ঠানের পূর্বে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ পর্বে দেশের এই মহান নেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, অপরিসীম সংগ্রাম ও অসামান্য অবদান দেশের সর্বস্তরের মানুষের উদ্দেশ্যে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন নজরুল ইসলাম খান। বক্তব্যে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম, তার পারিবারিক পটভূমি ও মর্যাদা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ঐতিহাসিক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এবং পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে রাজনীতিতে তার নাটকীয় আগমন ও অভাবনীয় উত্থানের কথা বিশদভাবে স্মরণ করা হয়।
তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, দেশের প্রতিটি সংকটকালে বেগম খালেদা জিয়া নিজের জীবনকে বাজি রেখে গণমানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার আপসহীন মনোভাব ও জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব দেশকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। তার বলিষ্ঠ দূরদর্শিতার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি আস্থা ও স্বাধীনতার অনন্য প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।
জানাজাস্থলে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের বিনম্র শ্রদ্ধা
দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে লাল-সবুজ জাতীয় পতাকায় অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে মোড়ানো একটি বিশেষ ফ্রিজার ভ্যানে করে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ জানাজাস্থলে নিয়ে আসা হয়। এর আগে দুপুর ২টা ৫ মিনিটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জানাজাস্থলে উপস্থিত হন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। উক্ত ঐতিহাসিক জানাজায় রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বস্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এক কাতারে শামিল হন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানগণ এবং বিএনপি সহ দেশের সর্বস্তরের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশে ঐতিহাসিক ভূমিকা
নজরুল ইসলাম খান তার বক্তব্য শেষ করেন খালেদা জিয়ার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সাফল্যের কথা স্মরণ করে। তিনি বলেন, তার আমলে গৃহীত নীতিমালার কারণেই দেশ আত্মনির্ভরশীলতার পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তিনি দেশকে কখনো কোনো বিদেশী শক্তির কাছে মাথা নত করতে দেননি। জাতীয় উন্নয়ন ও দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে তার গৃহীত কর্মসূচিগুলো যুগ যুগ ধরে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। সমগ্র দেশবাসী আজ গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে এই মহান দূরদর্শী নেত্রীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে এবং তার রেখে যাওয়া গণতান্ত্রিক আদর্শ অনুসরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জাতীয়তাবাদ