ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড এবং বিচারের দাবিতে পরিবারের আকুতি
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তার পরিবার চরম নিরাপত্তা ও শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। রাজধানীতে আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে তার বড় ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি ও বিচার চাওয়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রকাশ করেন যে, তার মায়ের মনে এখন তীব্র ভয় কাজ করছে। এক সন্তানকে হারানোর পর আরেক সন্তানকেও হারিয়ে ফেলার শঙ্কায় মা শংকিত ও আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
হুমকি, ভয়ভীতি ও আন্দোলন সংগ্রামের স্মৃতি
ঢাকা শহরের শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নিয়ে ওসমান হাদি যেভাবে প্রকাশ্যে ও সাহসিকতার সাথে প্রতিবাদী স্লোগান দিতেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পুরো পরিবারকে বিভিন্ন মাধ্যমে অব্যাহত হুমকি দেওয়া হতো। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মেসেঞ্জারে নিয়মিত কাফনের কাপড়ের ছবি পাঠিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হতো। শুরুর দিকে এসব বিষয পরিবারকে জানানো হলেও পরবর্তীতে স্বজনদের মনে উদ্বেগ না বাড়ানোর লক্ষ্যে ওসমান এসব হুমকির কথা চেপে যেতেন।
পারিবারিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে জানা যায়, বাবা মারা যাওয়ার পর দুই ভাই একই এলাকায় থেকে পরস্পরের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন। দেশব্যাপী জুলাই আন্দোলন শুরু হওয়ার সময় থেকে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কাজকর্ম সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে ওসমানের সাথে আন্দোলনে সরাসরি সক্রিয় অংশ নেন তার ভাই। ওসমান তাকে বারবার বলতেন, যদি তিনি কোনো কারণে শহীদ হন, তবে এই ন্যায়ের আন্দোলন যেন থেমে না যায় এবং তা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন
ভাইয়ের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারে সোচ্চার হতে বাধ্য হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানান যেন ওসমান হাদির এই মহান আদর্শ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের প্রতি কোণে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আদর্শিক লড়াইকে টিকিয়ে রাখা এখন সময়ের দাবি।
সুপরিকল্পিত আক্রমণ ও অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়া
হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, মূল ঘটনা ঘটার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই ঘাতক অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাদের চলাচলের স্থানগুলোর আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কয়েকবার তাদের ওপর হামলা বা হত্যার চেষ্টা চালানো হলেও তা নানা কারণে ব্যর্থ হয়। তবে শেষ পর্যন্ত জুমার নামাজের পর সুযোগ বুঝে ওসমানকে সরাসরি গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরবর্তী সপ্তাহে তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনাক্রম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অপরাধী এত বড় অপকর্ম করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়? সীমান্ত অতিক্রম এবং বিচারের ধীরগতি দেখে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা নিয়ে আজ চরম সংশয় তৈরি হয়েছে। দেশের সকল সচেতন মানুষকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভা থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি পুনরায় জোরদার করা হয়। উপস্থিত সবাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার জ্ঞাপন করেন।
#বিচার #বাংলাদেশ #সংবাদ #আইন