শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ। জুমার নামাজ শেষে হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হন এবং তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার তীব্র অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তাদের স্পষ্ট বার্তা ছিল যে, দেশজুড়ে অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

বিক্ষোভ মিছিল ও দূরদর্শী ছাত্র-জনতার অবস্থান

শুক্রবার জুমার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে এক সুবিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ মোড়ে এসে পৌঁছায় এবং স্থানটি সম্পূর্ণরূপে অবরোধ করে। আন্দোলনকারীদের অবস্থানের কারণে ওই এলাকার মূল সড়কগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির সপক্ষে বিভিন্ন জোরালো স্লোগান দেন। তাদের স্লোগানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলা এবং শহীদ হাদির আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় করে রাখা। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করেন, কোনো ধরনের টালবাহানা সহ্য করা হবে না এবং দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইনকিলাব মঞ্চের কঠোর বার্তা ও আলটিমেটাম

অবরোধ চলাকালে আয়োজিত এক জরুরি পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চ-এর শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন। সংগঠনের প্রভাবশালী সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই রাজপথের আন্দোলন থেকে একচুলও সরে দাঁড়াব না।” তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচারের প্রয়োজনে তারা শাহবাগ চত্বরে টানা অবস্থান ও রাত্রিযাপনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যথাযথ ভূমিকা পালন না করলে তারা আন্দোলন আরও জোরদার করার হুমকি দেন।

আহত হওয়া থেকে মর্মান্তিক মৃত্যুর বিবরণ

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা বিজয়নগর-এ সন্ত্রাসীদের নৃশংস গুলিবর্ষণে গুরুতরভাবে আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্বাস্থ্যের অবণতি ঘটলে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়। তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে বিমানযোগে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানকার চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও দীর্ঘ লড়াই শেষে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সমগ্র দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ ও গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। সর্বস্তরের জনগণ এবং ছাত্রসমাজ অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের আসামিদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

#শাহবাগ_অবরোধ #ইনকিলাব_মঞ্চ #বিচার_চাই #বাংলাদেশ