তারেক রহমানের বহুমাত্রিক ব্যস্ততা ও শনিবারের রাজনৈতিক কর্মসূচি

বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ দিন পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, তিনি আগামী শনিবার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাবেন এবং দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। তার এই ঝটিকা সফরের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত, নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্দোলন-সংগ্রামে আহতদের পাশে দাঁড়ানো।

কবর জিয়ারত ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি

প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, তারেক রহমান শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ইনকিলাব মঞ্চের শহীদ মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে যাবেন। সেখানে তিনি পরম করুণাময়ের দরবারে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার সময় তার সঙ্গে থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ ও প্রবীণ রাজনীতিক। নেতাকর্মীদের আশা, এই সফরের মাধ্যমে তরুণ ও ত্যাগী নেতাদের প্রতি দলীয় হাইকমান্ডের সুদৃঢ় আস্থা পুন প্রতিষ্ঠিত হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন ও হাসপাতাল পরিদর্শন

দিনের পরবর্তী ধাপে তিনি আগারগাঁও এলাকায় অবস্থিত নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যাবেন। সেখানে তিনি নাগরিক হিসেবে তার নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক কাজ সম্পন্ন করবেন। ইসির কার্যক্রম শেষ করে তারেক রহমান সরাসরি চলে যাবেন শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে, যা সাধারণ মানুষের কাছে পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চিকিৎসাধীন মারাত্মকভাবে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-জনতাকে দেখতে যাবেন তিনি। তাদের চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা, শারীরিক খোঁজখবর নেওয়া এবং সার্বিক সহায়তা প্রদানের ব্যাপারে দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করাই তার এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।

ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন, গণসংবর্ধনা ও পারিবারিক স্মৃতি

দীর্ঘ ১৭ বছরের দীর্ঘ ও নির্বাসিত জীবন শেষে গত বৃহস্পতিবার স্বদেশের মাটিতে পা রাখেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে তিনি রাজধানী-র ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত এক সুবিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি বসুন্ধরা এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার অসুস্থ মা ও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান এবং সেখান থেকে গুলশান-এর বাসভবনে ফেরেন।

সাধারণ মানুষের জনভোগান্তি যেন না হয়, তা বিবেচনা করে শুক্রবার তিনি নিজের বাসায় জোহরের নামাজ আদায় করেন। তবে বিকেলের দিকে তিনি শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে যান এবং তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। পরবর্তীতে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ঐতিহাসিক সাভার-এর জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা হন। দীর্ঘ সময় পর শীর্ষ নেতার এমন মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে বিপুল উদ্দীপনা, গতিশীলতা ও উৎসাহ উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #ঢাকা