শহীদ জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মৃতিসৌধের পথে তারেক রহমান

বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ঢাকা-র জিয়া উদ্যান এলাকায় এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে শহীদ জিয়ার সমাধিস্থল ও আশপাশের সড়কে সাধারণ মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বিপুল সমাবেশ লক্ষ্য করা যায়। সকলেই অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে স্মৃতিসৌধ ও সমাধি প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ করেন।

সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত পরিচালনা

অপরাহ্ণ ৪টা ৪০ মিনিট থেকে ৪টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তারেক রহমান জিয়া উদ্যান-এ অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করেন এবং “মরহুম নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।” তার সঙ্গে এই জিয়ারতে অংশ নেন বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটি ও জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। পুরো এলাকা জুড়ে সর্বস্তরের সমর্থক ও কর্মীরা উপস্থিত থেকে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক আবহ তৈরি করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষ করে এবং নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে তারেক রহমান সরাসরি সাভার-এর জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এর দিকে যাত্রা শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং জাতীয় বীরদের স্মরণ করতেই তার এই পরবর্তী সফর কর্মসূচি নির্ধারিত হয়েছে। উপস্থিত বিপুল সংখ্যক মানুষ পুরো যাত্রাপথে রাজপথে অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের স্লোগান দিয়ে তাদের শীর্ষ নেতাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানান।

গুলশান থেকে উদ্যান পর্যন্ত তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট রুট

এর আগে দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটে তারেক রহমান গুলশান অ্যাভিনিউ-এর ১৯৬ নম্বর বাসস্থান থেকে জিয়া উদ্যান-এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তার নিরাপত্তা বহর ও সফরসঙ্গীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে শহরের প্রধান সড়কগুলো অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছান। এই যাত্রাপথে তিনি গুলশান-২ গোলচত্বর অতিক্রম করে বনানী এলাকা দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হন। এরপর সেখান থেকে মহাখালী ফ্লাইওভার পার হয়ে দেশের শাসনকেন্দ্রিক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পাশ দিয়ে বিজয়ী সরণি পার হন।

পরবর্তীতে বহরটি বিমান চত্বর সংলগ্ন এলাকা অতিক্রম করে নির্দিষ্ট সময়ে জিয়া উদ্যান-এ গিয়ে পৌঁছায়। পুরো পথজুড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল, যাতে দলের সমর্থক ও সাধারণ নাগরিকরা সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খলভাবে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার আগমন প্রত্যক্ষ করতে পারেন। ঐতিহাসিক এই সফরে দলীয় প্রধানকে একনজর দেখার জন্য রাস্তার দুই পাশে হাজারো মানুষের আগ্রহ ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা যায়।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি

স্মৃতিসৌধ সফরের মাধ্যমে জাতীয় বীর ও বীর শহীদদের অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই হচ্ছে এই যাত্রার প্রধান লক্ষ্য। নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক পরিক্রমায় বিএনপি তাদের প্রতিষ্ঠাতাদের জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা বজায় রাখা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা করা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই রাজনৈতিক দলটির সংগ্রাম ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।

কর্মসূচির সফল সমাপ্তিতে সাভারের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর দলীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা প্রদান করা হতে পারে। হাজারো নেতাকর্মীর এই সুবিশাল জমায়েত ও শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি রাজনীতিতে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে জ্যেষ্ঠ নেতারা দাবি করছেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #বিএনপি