তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দেশব্যাপী বিশেষ দোয়া

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিবারসহ সসম্মানে দেশে প্রত্যাবর্তন এবং রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় দেশজুড়ে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা সহ সারাদেশের সকল মসজিদে বাদ জুমার নামাজ শেষে এই বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা কর্মসূচি পালিত হয়। দলটির হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে একদম তৃণমূল স্তর পর্যন্ত সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ অত্যন্ত বিপুল উৎসাহ ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

দলীয় নির্দেশনা ও সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ

গত বৃহস্পতিবার রাতে দলীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক জরুরি সাংগঠনিক বার্তায় দেশব্যাপী এই দোয়া মাহফিল ও বিশেষ প্রার্থনার কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানো হয়। সেখানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, দেশের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার দ্রুত আরোগ্য লাভ এবং দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষেই প্রধানত এই সমন্বিত ধর্মীয় আয়োজন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাজধানীর প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও মহল্লার জামে মসজিদগুলোর পাশাপাশি দেশের সকল জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় মসজিদগুলোতে জুমার সামাজিক জমায়েতে এই বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে জাতীয় নেতাদের শারীরিক সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে আকুল প্রার্থনা জানান।

দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও নেতৃত্বের গুরুত্ব

নেতাসেবক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান পরিবর্তিত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই দুই শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভূমিকা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ দিন ধরে বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন যাপন করলেও দলের সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখা, প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে দূরদর্শী দিকনির্দেশনা প্রদান এবং গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধারে তারেক রহমানের ধারাবাহিক ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বৈরী পরিবেশ, অগণিত মিথ্যা মামলা এবং কারাবরণের মতো কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েও আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া নিজের নীতি থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি। তার এই ত্যাগ ও নেতৃত্ব দলের জন্য অসীম প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে। নেতাকর্মীরা মনে করেন, শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও গভীর বিশ্বাসের ফলেই আজ দেশের কোণায় কোণায় এই রাজনৈতিক সংগঠনটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা

দোয়া মাহফিল শেষে কেন্দ্রীয় নেতারা সাংবাদিকদের জানান, রাজপথের টানা কঠিন আন্দোলন এবং সাধারণ জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনের মাধ্যমেই দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আজ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্বাস করেন যে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফিরে আসার মাধ্যমে দলীয় রাজনীতিতে আরও বেশি গতিশীলতা, নতুন উদ্দীপনা এবং সমন্বিত সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সাথে বেগম খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক ধারা আরও বেশি শক্তিশালী ও টেকসই রূপ লাভ করবে।

পরিশেষে, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে দেশবাসী ও ধর্মপ্রাণ তাওহীদি জনতার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #ঢাকা