শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইনসাফ কায়েম ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান
ঢাকা-র বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ৫৪ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের হাত থেকে কলম কেড়ে নিয়ে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যারেক্টারের কোনো গ্যারান্টি ছিল না। তবে দীর্ঘ অন্ধকার অধ্যায় বিদায় নিতে শুরু করলেও তার কালো ছায়া এখনো জাতির ওপর রয়ে গেছে। এই ছায়া সম্পূর্ণ দূর না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
নতুন প্রজন্মের ওপর বিশাল দায়িত্ব ও আকাঙ্ক্ষার চাপ
সম্মেলনে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা জীবনের এক পর্যায়ে চলে এসেছি এবং সাধ্যমত লড়াই করেছি। এখন সামনের দিকে বাকি লড়াইয়ের দায়িত্ব তরুণদের শক্ত হাতে কাঁধে নিতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, দেশের কোটি কোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপ এখন ছাত্র সমাজের ওপর। এই প্রত্যাশা পূরণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বর্তমান বাংলাদেশ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক থেকে শুরু করে ২৪-এর বিপ্লবের শরিফ ওসমান হাদি পর্যন্ত অগণিত মেধার আত্মত্যাগের মাধ্যমে আজকের দিনটি এসেছে। ছাত্র সমাজকে আজ কেবল সাধারণ কোনো সংগঠন হিসেবে নয়, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চরিত্র গঠন, নৈতিক শিক্ষা, আধুনিক জ্ঞান ও গবেষণার উর্বর ক্ষেত্র তৈরির অভিভাবকত্ব গ্রহণ করতে হবে।
কর্মসংস্থান ও তরুণদের ক্ষমতা অর্জনের রূপরেখা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকের বিস্তার ও অপসংস্কৃতি রোধের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, মায়েদের ও বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। বেকার ভাতা প্রদান প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, যুব সমাজ কারো দয়ার ওপর নির্ভর করে বেকার ভাতা গ্রহণ করুক তা কাম্য নয়। বেকার ভাতা-র পরিবর্তে প্রতিটি যুবকের হাতে কাজ তুলে দিয়ে তাদেরকে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যুবকরাই দেশের সর্বক্ষেত্রে নতুন বিপ্লব সাধন করবে।
কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
তিনি দাবি করেন, ছাত্রসমাজ ইনসাফের প্রতীক হিসেবে বিশ্বাস রেখেই ছাত্রসংগঠনগুলোকে গ্রহণ করেছে। দেশে ইনসাফের চরম অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আল্লাহর কোরআন এবং নবী রাসুলের (সা.) সুন্নাহ ব্যাতীত দুনিয়ার কোথাও কোনোদিন ইনসাফ কায়েম হয়নি এবং হওয়া সম্ভব নয়।” মানুষের জীবনে শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে এই নীতি অনুসরণে দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় সাদ্দাম হোসেন ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য সমমনা আটটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ সারির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা শিক্ষা ও রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #জামায়াত #শিক্ষা