দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে গণসংবর্ধনা ও হাসপাতালে তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছরের দীর্ঘ নির্বাসন জীবন শেষে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে পৌঁছানোর পর তিনি রাজপথের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন। বিমানবন্দরে নামার পর তিনি সরাসরি চলে যান ঢাকা-র ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। সেখানে সমবেত হাজার হাজার সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসার জবাব দেন তিনি। উক্ত অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান আর দেরি না করে সরাসরি চিকিৎসাধীন মাকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতাল-এর উদ্দেশে রওনা হন, যেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভর্তি রয়েছেন।

গণসংবর্ধনা মঞ্চ ত্যাগ ও হাসপাতালে আগমন

বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩০০ ফিট-এর সংবর্ধনা মঞ্চ ত্যাগ করে তারেক রহমান হাসপাতালের উদ্দেশে যাত্রা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষার পর তিনি সন্ধ্যায় হাসপাতালে পৌঁছান। প্রিয় নেতা অসুস্থ মাকে দেখতে হাসপাতালে আসছেন—এমন খবরে হাজার হাজার নেতাকর্মী আগেই এভারকেয়ার হাসপাতাল-এর সামনে এসে সমবেত হন। যারা গণসংবর্ধনার মূল মঞ্চের কাছে পৌঁছাতে পারেননি, তারাও একনজর তারেক রহমানকে দেখার আশায় হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন। ১৭ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে নেতাকে সামনে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত জনতা।

হাসপাতালের চারপাশে এক উৎসবমুখর এবং অত্যন্ত আবেগময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক নেতাকর্মীকে দেখা যায় দলের পতাকার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি বিশেষ পোশাক বা জার্সি পরে আসতে। তাদের মাথায় ছিল দলীয় লোগো সংবলিত ক্যাপ এবং কপালে লাল-সবুজ ব্যান্ড। অনেকের হাতে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা, বিভিন্ন রকমের ব্যানার এবং বর্ণিল প্ল্যাকার্ড। দলীয় প্রধানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন ঘিরে সর্বস্তরের জনতার এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ছিল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য।

নিরাপত্তা জোরদার ও বিমানবন্দর থেকে যাত্রার ইতিবৃত্ত

নেতাকর্মীদের ব্যাপক ভিড় ও নিরাপত্তাজনিত বিষয়টি বিবেচনা করে হাসপাতাল এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন পুলিশ, বিজিবি এবং সেনা সদস্যরা। এর আগে সকালে তারেক রহমান, তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি বাংলাদেশ-এর আকাশসীমায় প্রবেশ করে। বিমানটি প্রথমে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ স্বল্প সময়ের জন্য অবতরণ করে। পরবর্তীতে যাত্রা বিরতি শেষে বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ ল্যান্ড করে।

বিমানবন্দরে উপস্থিত বিএনপি-র জ্যেষ্ঠ নেতারা তাকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় আবেগঘন পরিবেশে একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও কোলাকুলি করেন। তারেক রহমান হাত নেড়ে উপস্থিত লাখো জনতাকে শুভেচ্ছা জানান। বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করার মুহূর্তে তিনি পরম শ্রদ্ধায় “জুতা খুলে খালি পায়ে নিজ জন্মভূমির মাটি স্পর্শ করেন”, যা উপস্থিত সবাইকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। পরবর্তীতে তিনি একটি বাসে চড়ে গণসংবর্ধনা মঞ্চের দিকে রওনা হন এবং প্রায় তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ধীরে ধীরে রাজপথ পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছান।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #তারেক_রহমান