কঠোর পরিশ্রমে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান: তারেক রহমান
দেশের সাধারণ মানুষের অদম্য নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত সার্বভৌম রাষ্ট্র নির্মাণ করা আমাদের পক্ষে পূর্ণাঙ্গভাবে সম্ভব হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত এক বিশাল ও সুসংগঠিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তিনি এসব দূরদর্শী কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা উপস্থাপন করেন।
মায়ের শারীরিক সুস্থতায় মোনাজাত ও জনগণের কাছে বিশেষ আকুতি
বক্তব্যের আবেগঘন একপর্যায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে আকুল দোয়া চেয়েছেন তারেক রহমান। তিনি উপস্থিত জনতার সামনে অত্যন্ত আবেগভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, “আমি এই ঐতিহাসিক সমাবেশের সুসজ্জিত মঞ্চ থেকে সরাসরি আমার অসুস্থ মায়ের কাছে যাবো।” তিনি আরও গভীর শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষ ও সাধারণ জনগণকে নিজের জীবনের চেয়েও বহুগুণ বেশি ভালোবেসেছেন এবং সারাজীবন ত্যাগের মহিমায় রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন।
খালেদা জিয়ার ওপর ঘটে যাওয়া বিগত দিনগুলোর নানাবিধ অন্যায় ও অবিচারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তার ওপর রাজনৈতিকভাবে কী ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে সে সম্পর্কে দেশের প্রতিটি নাগরিক পুরোপুরি সচেতন ও অবগত আছেন। একজন স্নেহশীল সন্তান হিসেবে দেশবাসীর নিকট অন্তরের গভীর থেকে বিনীত অনুরোধ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে আপনারা সবাই মন থেকে একনিষ্ঠভাবে দোয়া করবেন যেন আল্লাহ তাকে পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এবং তিনি যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে দেশের মানুষের কল্যাণে আবারও কাজ করার তৌফিক লাভ করতে পারেন।
জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বার্তা
তারেক রহমান তার বক্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মী ও আমজনতার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, “প্রিয় ভাই-বোনেরা, সন্তান হিসেবে আমার মন সারাক্ষণ আমার মায়ের কাছে, অর্থাৎ হাসপাতালের সেই নিবিড় শয্যায় পড়ে রয়েছে।” কিন্তু যে মহান রাজনৈতিক নেত্রী দেশের গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নিজের সম্পূর্ণ জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই অগণিত প্রিয় মানুষকে কোনোভাবেই পেছনে ফেলে রেখে যাওয়া সম্ভব নয়।
তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই তিনি হাসপাতালে যাওয়ার আগে সরাসরি এই জনসমুদ্রে ছুটে এসেছেন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সাধারণ মানুষের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সামনের দিনগুলোতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষ তার এই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে উচ্ছ্বসিত সমর্থন ও সংহতি জ্ঞাপন করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #সংবাদ