ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার: তারেক রহমান
জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসা নিয়ে ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত ন্যায়পরায়ণতার নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করার সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, আগামী দিনে জনগণের পবিত্র রায়ে যারা দেশ পরিচালনার পবিত্র দায়িত্বে আসবেন, তারা সবাই মিলে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ, সত্যবাদিতা এবং সুবিচারের মূল ভিত্তিকে পাথেয় করে রাষ্ট্র কাঠামোর সার্বিক উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
রাজধানী ঢাকা-র ঐতিহাসিক জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে-তে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সর্বস্তরের লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা যায়। জনসভায় উপস্থিত উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আশাবাদ প্রকাশ করেন।
স্রষ্টার রহমত ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সংকল্প
তারেক রহমান তার বক্তব্যে মহান আল্লাহর অপার রহমত ও দয়ার ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করে বলেন, “যদি মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, সাহায্য ও দয়া এ দেশের ওপর এবং সাধারণ মানুষের ওপর বজায় থাকে, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে আমাদের কাঙ্ক্ষিত ও স্বপ্নের সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ সক্ষম হব।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন কেবল ক্ষমতার বদল নয়, বরং এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার একটি মহান সুযোগ।
তিনি বিশ্বাস করেন যে, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন ও সঠিক বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত আবশ্যক। তিনি উল্লেখ করেন, সততা, নিষ্ঠা এবং ন্যায়পরায়ণতার যে শিক্ষা ইসলাম আমাদের প্রদান করেছে, রাজনৈতিক জীবন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটানো গেলে দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটগুলো খুব সহজেই দূর করা সম্ভব হবে।
জনগণের আস্থা, ঐক্য ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি সার্বিক জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং এখন তারা একটি সত্যিকার অর্থেই কল্যাণমুখী ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র দেখতে চায়। বিএনপি সবসময় জনগণের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে এসেছে এবং ভবিষ্যতে জনগণের ভালোবাসা ও রায়কে শিরোধার্য করে দেশের প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও যোগ করেন, তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের যে প্রত্যাশা আজ তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করাই হবে আগামী রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তারেক রহমান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। এই মহাসমাবেশে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ নাগরিকের উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #তারেক_রহমান #সংবাদ