তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে: চরমোনাই পীর

বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ মাতৃভূমি বাংলাদেশ-এ ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে গভীর আশাবাদ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সম্মানীত আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ বিবৃতিতে তিনি তারেক রহমানের এই বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তনকে উষ্ণ স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের চরম অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বিরাজ করছিল, যা সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল।

নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

ইসলামী দলটির প্রধান নেতা তাঁর বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি-র মতো একটি বৃহৎ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বঞ্চিত ছিল। তারেক রহমানের দেশে আগমনের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অভিভাবকত্ব ও নেতৃত্বের শূন্যতা সফলভাবে পূরণ হবে। তিনি মনে করেন, এই বড় রাজনৈতিক দলের সরাসরি সক্রিয় উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলবে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনর্বহালের সংগ্রাম আরও বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

সহিংসতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির চিরস্থায়ী অবসান

তবে এই দীর্ঘ ১৭ বছর পর শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরার পেছনে এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও নির্মম ঐতিহাসিক সত্য লুকিয়ে রয়েছে বলে চরমোনাই পীর উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি হলো বিগত সরকারের চরম হিংসাত্মক ও প্রতিহিংসামূলক অপরাজনীতি। পতিত চরম স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের পরিকল্পিত হিংসা ও রাজনৈতিক নির্যাতনের নির্মম শিকার হয়েই তাঁকে দিনের পর দিন প্রবাসে নির্বাসিত জীবনযাপন করতে বাধ্য হতে হয়েছিল। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আহ্বান জানান যে, সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ-এর মাটি থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দমন-পীড়ন চিরতরে উপড়ে ফেলতে হবে।

তিনি আশা করেন, তারেক রহমানসহ দেশের সকল প্রগতিশীল ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তি এক হয়ে সুস্থ, সহনশীল ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। সংঘাতের পথ পরিহার করে নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার পথ সুগম করতে সকলের যৌথ প্রয়াস অত্যন্ত জরুরি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ফ্যাসিবাদের স্থায়ী বিলোপ

তারেক রহমান তাঁর সাম্প্রতিক ভাষণগুলোতে দেশ ও জাতি পুনর্গঠনে নিজস্ব উদ্ভাবনী ভিশন ও বিশেষ রূপরেখার কথা উল্লেখ করেছেন। চরমোনাই পীর আশা প্রকাশ করেন যে, উক্ত মহাপরিকল্পনায় দেশে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকাশ ঘটবে। একইসঙ্গে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের যেন আর কখনো উত্থান না ঘটে, তার জন্য স্থায়ী আইনি ও প্রশাসনিক বন্দোবস্ত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও স্বচ্ছতার দাবি

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ সময় পার হওয়া সত্ত্বেও তারেক রহমানের দেশে ফিরতে বিলম্ব হওয়ার পেছনে কিছু রহস্যজনক অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। বাংলাদেশ-এর মতো স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের একজন প্রথম সারির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার স্বদেশ আগমন অন্য কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা অপশক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। কোনো ধরনের চক্রান্ত বিদ্যমান থাকলে তা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করা প্রয়োজন। দেশবাসী ও সকল রাজনৈতিক দলের সুবিধার্থে বিএনপি-র পক্ষ থেকে এই অস্পষ্ট বিষয়গুলো দ্রুত জাতির সামনে পরিষ্কার করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #ইসলামী_আন্দোলন #তারেক_রহমান